ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে মতপার্থক্যের খবরে নতুন মাত্রা যোগ করে দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান দাবি করেছেন, সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির সঙ্গে যোগাযোগ করা বর্তমানে ‘খুব কঠিন’ হয়ে পড়েছে।
বার্তা সংস্থা এএফপির বরাতে তিনি বলেন, এই মুহূর্তে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা খুব কঠিন। তবে যাই হোক, তার উপস্থিতি আমাদের জন্য বড় শক্তির উৎস, যাতে আমরা এগিয়ে যেতে পারি।
জনসমক্ষে অনুপস্থিত থাকলেও ইরানের পাল্টা পদক্ষেপে মোজতবা খামেনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছেন বলে দাবি করেন পেজেশকিয়ান। ইরানের প্রেসিডেন্ট তার নেতার পক্ষে অবস্থান নিয়ে বলেন, তার সঙ্গে ফলপ্রসূ বৈঠক হয়েছে এবং তিনি ‘সৌজন্য ও অত্যন্ত যুক্তিসংগত’ আচরণ পেয়েছেন।
তিনি বলেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে বর্তমান পরিস্থিতি কিছু বিদ্বেষপূর্ণ মানুষকে তাকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন এবং তার ভিন্ন একটি ভাবমূর্তি তুলে ধরার সুযোগ করে দিয়েছে।
এদিকে, বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, আলোচনাসহ সংঘাত-সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে মোজতবা খামেনি ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) কমান্ডার আহমাদ ওয়াহিদিকে সমর্থন দিয়ে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানকে ‘চূড়ান্ত আলটিমেটাম’ দিয়েছেন।
ইসরায়েলি সম্প্রচারমাধ্যম চ্যানেল ১৪, তেহরানের পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, মোজতবা খামেনি প্রেসিডেন্টের পদত্যাগের হুমকি নিরুৎসাহিত করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে কার্যত তার প্রধান রাজনৈতিক হাতিয়ারটি কেড়ে নিয়েছেন।
প্রতিবেদনটিতে আরও দাবি করা হয়, নীতিগত মতবিরোধের সময় পেজেশকিয়ান একাধিকবার পদত্যাগের হুমকি দিয়েছিলেন। মে মাসে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগের আবেদনও করেন। তার অভিযোগ ছিল, জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত থেকে তার সরকারকে পুরোপুরি দূরে রাখা হয়েছে।
সূত্র: এনডিটিভি