ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা কমাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তৈয়ব এরদোয়ান। সোমবার (১৮ আগস্ট) দুই নেতার মধ্যে অনুষ্ঠিত এক ফোনালাপে এই আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে শান্তি প্রচেষ্টায় আঙ্কারার সমর্থনের প্রস্তাবও দিয়েছেন তিনি। তুর্কি প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
ন্যাটোর দ্বিতীয় বৃহত্তম সামরিক শক্তির দেশ এবং ইরানের প্রতিবেশী তুরস্ক বারবার এই যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়ে আসছে। দেশটি যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং পাকিস্তান ও কাতারের মতো মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রক্ষা করার পাশাপাশি পক্ষগুলোর মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবেও কাজ করে যাচ্ছে।
প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এরদোয়ান উল্লেখ করেছেন যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার উত্তেজনার বিষয়ে কূটনীতির সর্বোচ্চ ব্যবহার করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা আশা করি যে আলোচনা অব্যাহত থাকবে এবং তুরস্ক শান্তি প্রচেষ্টায় তার সমর্থন বজায় রাখবে।
স্থায়ীভাবে যুদ্ধ সমাপ্তির আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ার পর এবং ওয়াশিংটন সাময়িক যুদ্ধবিরতি চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়টি নাকচ করে দেওয়ার প্রেক্ষাপটে সোমবার রয়টার্সকে এক শীর্ষ ইরানি কর্মকর্তা জানান, ইরান পুরোপুরি ‘আক্রমণাত্মক’ সামরিক অবস্থানে চলে যাবে। ওই কর্মকর্তার এই বক্তব্যের পরই দুই নেতার মধ্য ফোনালাপের খবর এলো।
এছাড়া হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি তেলবাহী ট্যাংকার চলাচল পুনরায় শুরু করার অগ্রগতিও থমকে গেছে।
তুরস্ক ইরান ও উপসাগরীয় দেশগুলোতে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার সমালোচনা করার পাশাপাশি উপসাগরীয় দেশগুলোতে ইরানের আক্রমণেরও নিন্দা জানিয়েছে। একই সঙ্গে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালীটি পুনরায় খুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে দেশটি।
সোমবার তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা এবং যুদ্ধবিরতি অব্যাহত রাখার বিষয়ে আলোচনা করেন।
তুরস্কের প্রেসিডেন্টের দফতর জানায়, এরদোয়ান ও ট্রাম্প দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, গাজায় যুদ্ধ এবং তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়েও আলোচনা করেন। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার জন্য ওই চুক্তিকে ‘শক্ত অবস্থানের’ নিদর্শন হিসেবে প্রশংসা করেন এরদোয়ান।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এরদোয়ান ট্রাম্পকে জানিয়েছেন যে ট্রাম্পের গাজা শান্তি পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপ কার্যকর হওয়ার কথা ছিল এমন এক সময়ে যখন ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলের হামলা আরও বেড়েছে।
তবে এই ফোনালাপের বিষয়ে মন্তব্যের জন্য হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনও সাড়া পাওয়া যায়নি।