ইয়েমেনে হুথি ও সৌদিপন্থি সরকারের পাল্টাপাল্টি হামলায় পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের শঙ্কা

ইয়েমেনজুড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় হুথি অবস্থান লক্ষ্য করে কয়েক ডজন হামলা চালিয়েছে দেশটির সরকারি বাহিনী। নতুন করে এ পাল্টাপাল্টি হামলা মধ্যপ্রাচ্যের দেশটিকে ফের এক পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।

বৃহস্পতিবার সরকারি মুখপাত্র মাজেদ আবদুল্লাহ আল-নুজাইলি জানান, গত এক দিনে হুথি অবস্থানগুলোতে সরকারি বাহিনী ৮১টি হামলা চালিয়েছে। এতে হুথির বেশ কয়েকজন যোদ্ধা এবং মাঠপর্যায়ের কমান্ডার ‘নিষ্ক্রিয়’ হয়েছেন।

অন্যদিকে, একই দিনে ইয়েমেন সীমান্তসংলগ্ন সৌদি আরবের নাজরান প্রদেশের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে দুটি ড্রোন হামলা চালিয়েছে হুথিরা। হুথির সামরিক মুখপাত্র এহিয়া সারিয়া জানান, তারা নাজরান বিমানবন্দর এবং প্রদেশের একটি আরামকো স্থাপনায় সফলভাবে আঘাত হেনেছে। তবে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে এই হামলার সত্যতা নিশ্চিত করা হয়নি।

হুথিদের সমর্থনকারী ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) বৃহস্পতিবার সতর্ক করে বলেছে, সৌদি আরবে হুথিদের হামলা বৃদ্ধি পাওয়ায় রিয়াদ তাদের নিয়ন্ত্রণ করতে অক্ষম হবে। গত জুলাই মাসে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ ঘোষণার পর থেকে হুথিরা দেশটির অবকাঠামো ও জাহাজ লক্ষ্য করে একাধিকবার হামলা চালিয়েছে।

এডেনে অবস্থিত ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারও হুথিদের বিরুদ্ধে ইয়েমেনে অবরোধ আরোপের চেষ্টা এবং দেশের তেল রফতানি বন্ধ করার অভিযোগ তুলেছে।

গত এক মাস ধরে ইয়েমেনে লড়াই তীব্র আকার ধারণ করেছে। সরকারি বাহিনী হুথিদের বিরুদ্ধে শত শত অভিযান চালিয়ে বহু যোদ্ধা হত্যার দাবি করেছে। কার্যত স্থবির হয়ে থাকা প্রায় পুরো সম্মুখযুদ্ধ জুড়ে দুই পক্ষের মধ্যেই গোলাগুলি এবং ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে। তবে কোনও পক্ষই এখনও বড় ধরনের আক্রমণাত্মক অভিযান শুরু করেনি।

উভয় পক্ষই বন্দর ও বিমানবন্দরসহ দূরবর্তী অসামরিক অবকাঠামোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার কথা জানিয়েছে।

২০১৪ সালে হুথিরা রাজধানী সানাসহ দেশের বেশিরভাগ এলাকা দখল করে নেয়। এর ফলে সৌদি নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক জোট সমর্থিত সরকার এবং হুথিদের মধ্যে বছরের পর বছর ধরে যুদ্ধ চলে। পরে ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় একটি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় উভয় পক্ষ, যা যুদ্ধের তীব্রতা অনেকাংশে কমিয়ে এনেছিল। তবে সাম্প্রতিক হামলাগুলো ফের বড় আকারের সংঘাতের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

জাতিসংঘের হিসাব মতে, ইয়েমেনের অন্তত ১ কোটি ৮০ লাখ মানুষের কাছে পর্যাপ্ত খাবার পৌঁছায় না। সোমবার জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান ফোলকার টুর্ক উভয় পক্ষকে ইয়েমেনি জনগণকে আরও দুর্ভোগ থেকে রক্ষা করার এবং ইয়েমেনকে পুনরায় পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে ফিরিয়ে নেওয়ার ঝুঁকিপূর্ণ পদক্ষেপগুলো অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

এদিকে একই দিনে যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা জানিয়েছে, ইয়েমেন উপকূলে ছয়জন সশস্ত্র ব্যক্তি একটি ট্যাংকারে উঠে পড়ে এবং সেটি সোমালিয়ার দিকে ঘুরিয়ে নেয়।