ইসরায়েলে ছড়িয়ে পড়তে পারে ক্ষতিকর ৩ প্রজাতির মাছ: গবেষণা

সুয়েজ খাল অতিক্রম করে লোহিত সাগর থেকে ভূমধ্যসাগর দিয়ে ইসরায়েলে অনুপ্রবেশ করতে পারে এমন ৩টি সম্ভাব্য ক্ষতিকারক মাছের প্রজাতি শনাক্ত করেছেন তেল আবিব বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা। সমুদ্রের পানি দ্রুত উত্তপ্ত হতে থাকায় প্রজাতিগুলো তাদের পুরনো আবাসস্থল ছেড়ে নতুন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে সতর্ক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলভিত্তিক সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল।

‘দ্য জার্নাল অব অ্যানিমেল ইকোলজি’-তে প্রকাশিত গবেষণায় বলা হয়, এই সম্ভাব্য ৩টি প্রজাতি হলো- স্টেলেট পাফার, সিনাবার গোটফিশ ও ইয়েলোস্পটেড ট্রেভ্যালি। পিয়ার-রিভিউড এই গবেষণায় পরিসংখ্যান ও পরিবেশগত মডেলিংয়ের পাশাপাশি পানির নিচে ব্যাপক পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে।

তবে এসব মাছ ঠিক কবে ভূমধ্যসাগর দিয়ে ইসরায়েলে পৌঁছাতে পারে, তা গবেষকেরা এখনও বলতে পারছেন না। তাদের তৈরি মডেল সম্ভাব্য নতুন প্রজাতি আগেভাগে শনাক্ত করতে কর্তৃপক্ষ ও সামুদ্রিক বিজ্ঞানীদের সহায়তা করতে পারে।

গবেষণায় উল্লেখ করা হয়, শনাক্ত হওয়া প্রজাতিগুলোর মধ্যে স্টেলেট পাফার চরম বিষাক্ত। এর শরীরে ‘টেট্রোডোটক্সিন’ নামের উপাদান থাকে, যা খেলে মানুষের পক্ষাঘাত বা শ্বাসকষ্টে মৃত্যু হতে পারে। পাশাপাশি এটি শক্ত দাঁত দিয়ে জেলেদের জাল কেটে ক্ষতি করে। সিনাবার গোটফিশ  কাদা ও বালি খুঁড়ে খাবার খায়, যা ভূমধ্যসাগরের বাণিজ্যিক মাছ রেড মুলেটের খাদ্যে ভাগ বসাবে। আর ১ মিটারেরও বেশি লম্বা শিকারী মাছ ইয়েলোস্পটেড ট্রেভ্যালি বিপুল পরিমাণ ছোট মাছ খেয়ে ইকোসিস্টেম নষ্ট করবে।

গবেষণাটির তত্ত্বাবধায়ক তেল আবিব বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব জুওলজির অধ্যাপক জনাথন বেলমেকার জানান, সুয়েজ খাল বা ভূমধ্যসাগরে লোহিত সাগরের মতো প্রবাল প্রাচীর নেই। তাই যেসব প্রজাতি প্রবাল প্রাচীরের ওপর নির্ভরশীল নয় এবং অগভীর পানিতে খাপ খাওয়াতে পারে, তারাই মূলত সফলভাবে স্থানান্তরিত হতে পারছে।

গবেষকদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পূর্ব ভূমধ্যসাগরের তাপমাত্রা বছরে ০.১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস হারে বাড়ছে। ফলে শীতকালের ঠান্ডা পানির প্রাকৃতিক বাধা দূর হয়ে ক্রান্তীয় অঞ্চলের মাছগুলো সহজেই টিকে থাকছে। ইতোমধ্যেই ভূমধ্যসাগরীয় অগভীর চরের ২৩ শতাংশ থেকে ৪৪ শতাংশ মাছই বহিরাগত প্রজাতি হিসেবে জায়গা দখল করে নিয়েছে।

গবেষকেরা এই অনুপ্রবেশ ঠেকা সুয়েজ খাল ও ইসরায়েলে এসব মাছ বা তাদের লার্ভা দেখা গেলে দ্রুত জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি জাহাজের ব্যালাস্ট পানি জীবাণুমুক্ত করা, জাহাজের গায়ে থাকা জীববৈচিত্র্য পরিষ্কার করা এবং গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিয়মিত পানির নমুনা পরীক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।