সিরিয়ার সামরিক ঘাঁটিতে গত সপ্তাহে ইসরায়েলের বিমান হামলার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, অঞ্চলটিতে তুর্কি পররাষ্ট্রনীতির সীমানা নির্ধারণের ক্ষমতা কোনও বহিরাগত শক্তির নেই এবং আঙ্কারা কখনোই তার আঞ্চলিক সহযোগীদের একা ছেড়ে দেবে না।
সম্প্রতি তুর্কি সীমান্ত থেকে মাত্র ৭০ কিলোমিটার দূরে উত্তর সিরিয়ার আবু আল-দুহুর বিমানঘাঁটিতে কয়েক দফা হামলা চালায় ইসরায়েল। ওই ঘাঁটিতে আঙ্কারা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করতে চেয়েছিল বলে দাবি ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের। তুর্কি সামরিক বাহিনীর এই উপস্থিতি ইসরায়েলি আকাশসীমার স্বাধীন কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করবে দাবি করে তারা একে ‘রেড লাইন’ বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছিল।
তবে তুরস্ক ও সিরিয়া উভয় দেশের কর্মকর্তারাই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েনের দাবি অস্বীকার করে জানান, তুর্কি কর্মীরা কেবল রানওয়ে ও নিয়ন্ত্রণ টাওয়ার মেরামতের কাজ করছিলেন। এই বক্তব্যকে সমর্থন করেছেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত টম বারাকও।
পূর্বাঞ্চলীয় বিটলিস প্রদেশের আহলাতে মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর এরদোয়ান বলেন, আমি পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, রাজনৈতিকভাবে মৃত ও উদ্ধত অযোগ্য ব্যক্তিদের তাদের স্বার্থের জন্য আমাদের বলির পাঁঠা বানাতে দেবো না।
নির্যাতিত মানুষের পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে তিনি আরও বলেন, আমাদের প্রতি আস্থা রাখা ভাই ও বন্ধুদের কখনও ছেড়ে যাবো না। নিরীহ মানুষের রক্তে যাদের হাত রঞ্জিত, সেসব খুনি গোষ্ঠী বিরক্ত হবে বলে আমরা প্রতিবেশীদের ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করা বন্ধ করবো না। জনগণ ছাড়া অন্য কোনও সত্তা তুরস্কের নীতি ঠিক করতে পারবে না।
অঞ্চলটিতে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ছাড়া তুরস্কের অন্য কোনও গোপন এজেন্ডা নেই বলেও মন্তব্য করেন এরদোয়ান। সম্প্রতি এই দুই দেশের উত্তেজনায় উদ্বিগ্ন ন্যাটোর অন্যতম প্রধান মিত্র যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে গাজায় ত্রাণবাহী জাহাজে হামলার ঘটনার পর তুর্কি বিচার মন্ত্রণালয় ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলে ‘রেড নোটিশ’ জারির অনুরোধ পাঠিয়েছে।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই