ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ছেলে ইয়ার নেতানিয়াহুর জীবনের ওপর ‘গুরুত্বপূর্ণ হুমকি’ থাকায় তাকে যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামি থেকে জরুরি ভিত্তিতে ইসরায়েলে ফিরিয়ে আনা হয়েছে বলে শনিবার নিশ্চিত করেছে দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা শিন বেত।
সম্প্রতি সরকারপন্থি সম্প্রচারমাধ্যম চ্যানেল ১৪-কে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু দাবি করেন, ইরান আমার এক ছেলেকে লক্ষ্যবস্তু করেছিল। তারা আমার ছেলেকে হত্যা করার চেষ্টা করেছিল।
এই বক্তব্যের পর ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ফ্লোরিডায় বসবাসকালে ইয়ারের ওপর ইরানি হত্যাচেষ্টার খবর প্রকাশ্যে আসে। শনিবার সন্ধ্যায় দেওয়া এক বিবৃতিতে শিন বেট জানায়, ইয়ার নেতানিয়াহুর মারাত্মক ক্ষতির একটি স্পষ্ট হুমকি ছিল। পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে তাকে ও তার নিরাপত্তা দলকে জরুরি ভিত্তিতে উদ্ধার করে ইসরায়েলে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, এই আকস্মিক অভিযান চালাতে শিন বেত নিউ ইয়র্কে অবস্থানরত ইসরায়েলি প্রেসিডেন্ট আইজাক হারজগের নিরাপত্তায় নিয়োজিত কয়েকজন এজেন্টকে দ্রুত মিয়ামিতে সরিয়ে নেয়। হিব্রু ভাষার সংবাদে হুমকির ধরন বা এর নেপথ্যে কারা ছিল তা স্পষ্ট না করা হলেও, গত বুধবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউজম্যাক্স জানায়, গোয়েন্দা সংস্থাগুলো মনে করছে ইরানি এজেন্টরা মিয়ামিতে অবস্থান করে ইয়ারের চলাচলের ওপর নজরদারি চালাচ্ছিল।
গত কয়েক বছর ধরে ইয়ার মিয়ামিতে বসবাস করছিলেন, যেখানে তার বিলাসবহুল জীবনযাপন ও সরকারি খরচে দেওয়া নিরাপত্তা ইসরায়েলে একাধিকবার আলোচনার সৃষ্টি করে। বিশেষ করে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর যুদ্ধ শুরু হলে শত শত হাজারো ইসরায়েলি যখন সামরিক বাহিনীতে সেবা দিচ্ছিলেন, তখন প্রধানমন্ত্রীর ছেলের বিদেশে অবস্থান নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়। চ্যানেল ১৪-এর সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু এই নিরাপত্তার পক্ষে সাফাই গেয়ে বলেন, নিরাপত্তা না থাকলে আততায়ীরা সফল হয়ে যেত।
উগ্র ডানপন্থি অ্যাক্টিভিস্ট ও পডকাস্টার ইয়ার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বাবার রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী ও সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক পোস্টের জন্য পরিচিত।
সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল