২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে অন্তত ১২ মাসের জন্য প্রায় ১ হাজার ৩৭০ ইসরায়েলি চিকিৎসক দেশ ছেড়েছেন। তেল আবিব বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। গবেষকদের মতে, দেশটির স্বাস্থ্য খাতে চিকিৎসকদের এই বিদেশমুখিতা উদ্বেগজনক মাত্রায় পৌঁছেছে। গবেষণার বরাত দিয়ে এমন খবর প্রকাশ করেছে টাইমস অব ইসরায়েল।
গবেষণা অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ৪১৬ জন, ২০২৪ সালে ৫৩০ জন এবং ২০২৫ সালে আনুমানিক ৪১৯ জন চিকিৎসক বিদেশে গেছেন। তিন বছরে এ সংখ্যা ২০১৩-১৫ সময়ের ৭০৫ জনের প্রায় দ্বিগুণ। গবেষকদের হিসাবে, এই সংখ্যা শারে জেদেক, সোরোকা বা শামির মেডিক্যাল সেন্টারের মতো বড় হাসপাতালের পুরো চিকিৎসক জনবলের চেয়েও বেশি।
বিদেশে গিয়ে পরে দেশে ফেরা চিকিৎসকদের হিসাব ধরেও ২০২৩ ও ২০২৪ সালে ইসরায়েলে ফেরেননি ৫০৯ চিকিৎসক। বছরে গড়ে প্রায় ২৫৫ জনের এই না ফেরার হার ২০১০-১৯ সময়ের বার্ষিক গড় ৫৪ জনের তুলনায় প্রায় পাঁচ গুণ।
তবে বিদেশে এক বছর থাকা মানেই স্থায়ীভাবে দেশত্যাগ নয়। অনেক চিকিৎসক ফেলোশিপ, গবেষণা বা প্রশিক্ষণের জন্য বিদেশে যান। গবেষকদের মতে, দীর্ঘ সময় বিদেশে থাকার প্রবণতা দ্রুত বেড়ে যাওয়াই উদ্বেগের কারণ।
গবেষণাটি করেছেন অধ্যাপক ইতাই আতার, অধ্যাপক নিটাই বার্গম্যান ও পিএইচডি গবেষক ডোরন জামির। সরকারি জনসংখ্যা নিবন্ধন, শিক্ষা-সংক্রান্ত তথ্য ও চিকিৎসা লাইসেন্সের নথি মিলিয়ে তারা গবেষণাটি পরিচালনা করেন। গবেষকদের মতে, প্রায় ১ হাজার ৪০০ চিকিৎসকের চলে যাওয়া রোগীদের অপেক্ষার সময় বাড়ানো এবং চিকিৎসাসেবার কার্যকারিতা কমিয়ে দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করছে।
গবেষণায় চিকিৎসকদের দেশ ছাড়ার সঙ্গে রাজনৈতিক পরিস্থিতির সরাসরি কোনও সম্পর্ক স্থাপন করা হয়নি। তবে ২০২৩ সালেই ইসরায়েল সরকার বিতর্কিত বিচারব্যবস্থা সংস্কারের উদ্যোগ নেয়, যা ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছিল।