চলতি সপ্তাহে ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলে হুথিদের হঠাৎ এই দ্রুত অগ্রগতির পেছনে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর সরাসরি নির্দেশনা ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে চলমান সংঘাতের নতুন একটি ফ্রন্ট খুলতেই ইয়েমেনের সরকার, ইরান ও আঞ্চলিক বিভিন্ন সূত্রের বরাতে এই তথ্য নিশ্চিত হয়েছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় মোখা বন্দরনগরী দখলের মাধ্যমে হুথিরা বাব এল-মান্দেব প্রণালির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত করলো। হরমুজ প্রণালি অবরোধের পর নতুন করে এই নৌপথ বিঘ্নিত হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে টান পড়েছে।
ইরানের দুটি সূত্র জানিয়েছে, গত সপ্তাহে তেহরান হুথিদের নির্দেশ দেয় যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র সৌদি আরবের ওপর হামলা জোরদার করতে এবং এর বিনিময়ে আরও অর্থ, অস্ত্র ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা পাঠাবে বলে আশ্বাস দেয়।
প্রকাশ্যে ইয়েমেনি বিদ্রোহীদের নিজেদের প্রক্সি বলতে নারাজ হলেও একটি আঞ্চলিক কূটনৈতিক সূত্রের খবর অনুযায়ী, হামলা নিয়ন্ত্রণ করতে বিপ্লবী গার্ডসের শীর্ষ পর্যায়ের বেশ কয়েকজন কমান্ডার ইয়েমেনে পৌঁছান। গোয়েন্দা তথ্য ও বন্দি হুথিদের বয়ান বিশ্লেষণ করে ইয়েমেনের সামরিক সূত্রগুলো ধারণা করছে, এই পুরো অভিযানে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বিপ্লবী গার্ডসের কুদস ফোর্সের শীর্ষ কমান্ডার আবদল রেজা শাহলাই।
ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের ইয়েমেন বিষয়ক বিশ্লেষক আহমেদ নাগি বলেন, পশ্চিম উপকূলে হুথিদের এই আক্রমণ মাত্র গত সপ্তাহে বা গত মাসে নেওয়া প্রস্তুতি নয়। ইরানের কাছ থেকে সরাসরি বা বিভিন্ন চোরাচালান নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পাওয়া নতুন ড্রোন ও আধুনিক অস্ত্রের কারণেই হুথিদের এই রূপান্তর ঘটেছে।
অন্যদিকে কৌশলগত পশ্চিম উপকূল রক্ষায় সৌদি আরবের কাছে বিমান হামলাসহ অতিরিক্ত সহায়তা চেয়েছিল ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার। তবে রিয়াদ কেবল কিছু লজিস্টিক, অস্ত্র ও সীমিত বিমান সহায়তা দিয়ে তাদের মূল নজর উত্তরেই সীমাবদ্ধ রেখেছে।
ইয়েমেনি কর্মকর্তাদের মতে, নিজেদের ভূখণ্ডে ড্রোন হামলার আশঙ্কায় রিয়াদ হুথিদের সঙ্গে বড় ধরনের সংঘাত এড়াতে চাইছে। তবে শেষ পর্যন্ত সরকারি বাহিনী সৌদি সহায়তা পেয়ে হুথিদের সেখান থেকে সহজে হটাতে পারবে কিনা, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।