যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ভরসা কমছে, নতুন করে ভাবছে বিশ্ব

অর্থ জমা রাখা, অস্ত্র কেনা কিংবা শিক্ষার্থীদের পাঠানোর ক্ষেত্রে বিদেশি সরকার ও মানুষের কাছে দীর্ঘদিনের প্রথম পছন্দ ছিল যুক্তরাষ্ট্র। তবে সেই অবস্থান এখন ধীরে ধীরে বদলাতে শুরু করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমানোর নানা উদ্যোগ নিচ্ছে দেশগুলো।

গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা থেকে ৮৬ টন স্বর্ণ সরিয়ে নিয়েছে নেদারল্যান্ডস। দেশটি জানিয়েছে, চরম পদ্ধতিগত ঝুঁকি মোকাবিলায় এটি একটি সুরক্ষামূলক পদক্ষেপ। ফ্রান্স ইতোমধ্যে নিউ ইয়র্ক থেকে তাদের সব স্বর্ণ সরিয়ে নিয়েছে। একই পথে যাওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে জার্মানিও।


যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগ কমানোর পরিকল্পনা জানিয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় সার্বভৌম সম্পদ তহবিল নরওয়ের তহবিলও। ট্রেজারি বাজারের অস্থিরতার মধ্যেই এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।

অর্থনীতির বাহিরেও ইউরোপের দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমানোর পথ খুঁজছে। অস্ত্রের ক্ষেত্রে স্থানীয়ভাবে আরও বেশি সরঞ্জাম সংগ্রহ করতে চাইছে ইউরোপ, যেন মার্কিন সামরিক শক্তির ওপর নির্ভরতা কমে। প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোর ওপর নির্ভরতা কমাতে উদ্যোগ নিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে সাধারণ মানুষও নতুন করে হিসাব-নিকাশ কষছেন। সর্বশেষ ভর্তি মৌসুমে যুক্তরাষ্ট্রের কলেজগুলোতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের আবেদন ১০ শতাংশ কমেছে। কঠোর ভিসানীতি ও ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতি এর পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। 

যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক পর্যটনও কমেছে। ২০২৫ সালে দেশটিতে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ ৫ দশমিক ৫ শতাংশ কমে যায়, যা মহামারির পর সর্বোচ্চ পতন। কানাডীয় পর্যটকদের ভ্রমণ কমেছে ২৫ শতাংশ। ২০২৬ সালের শুরুর দিকেও সেই পতন অব্যাহত ছিল। ট্রাম্পের মেয়াদ শুরুর পর জার্মানদের যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণও ২৫ শতাংশ কমেছে।

পিউ রিসার্চ সেন্টারের সাম্প্রতিক এক জরিপেও পশ্চিমা বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান দুর্বল হওয়ার চিত্র উঠে এসেছে। জরিপে অংশ নেওয়া ১০টি দেশের মধ্যে শুধু হাঙ্গেরি ও পোল্যান্ডের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ যুক্তরাষ্ট্রকে এখনও নির্ভরযোগ্য অংশীদার মনে করেন। 

তবে এর অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক পুরোপুরি ছিন্ন করা নয়। বিশ্ব বাণিজ্যে মার্কিন ডলারের আধিপত্য এখনও অটুট, মিত্ররা মার্কিন সামরিক শক্তির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্র এখনও বিশ্বের প্রধান গন্তব্য। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা স্বর্ণের মজুত ফিরিয়ে আনার দাবি জার্মানি, ইতালি ও স্পেনে নতুন করে জোরালো হচ্ছে। 

সূত্র: অ্যাক্সিওস