ইরানে দুটি বিমান হামলায় যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধাপরাধ করেছে বলে মনে করার মতো যৌক্তিক ভিত্তি পেয়েছে জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের নিয়োগ করা বিশেষজ্ঞদের একটি দল। হামলা দু’টিতে নারী ও শিশুসহ অন্তত ১৭৮ বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার এই তথ্য জানিয়েছে মার্কিন বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)।
ইরান বিষয়ক আন্তর্জাতিক অনুসন্ধানী মিশন জানিয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী যুদ্ধ শুরুর দিকে ওই হামলাগুলো চালানো হয়। এর একটি হামলায় দক্ষিণাঞ্চলীয় মিনাব শহরের শাজারেহ তাইয়্যেবেহ স্কুলে অন্তত একটি মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। ইরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের দাবি, ওই হামলায় ১৬৮ জন নিহত হন, যাদের বেশিরভাগই শিশু।
জাতিসংঘের সমর্থিত দলটি বলেছে, স্কুলটিতে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং লামার্ড শহরের একটি ক্রীড়া কমপ্লেক্স ও আবাসিক এলাকায় আরেকটি বিমান হামলার ঘটনায় তারা যুদ্ধাপরাধের অভিযোগের পক্ষে যৌক্তিক ভিত্তি পেয়েছে। লামার্ডে হামলায় নির্ভুলভাবে আঘাত হানার ক্ষেপণাস্ত্র থেকে টাংস্টেনের ছোট টুকরা ছড়িয়ে পড়ে এবং এতে ২২ বেসামরিক মানুষ নিহত হন বলে জানিয়েছে দলটি।
তবে লামার্ডের ওই হামলার দায় অস্বীকার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড। মিনাবের স্কুলে হামলার বিষয়েও ট্রাম্প প্রশাসন এখন পর্যন্ত সরাসরি দায় স্বীকার করেনি। একই সঙ্গে পেন্টাগনের তদন্তের ফলও প্রকাশ করা হয়নি।
এদিকে ইরানে সরকারি নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে ব্যাপক হত্যাকাণ্ডের অভিযোগও তুলেছে জাতিসংঘের এই অনুসন্ধানী দল। তাদের দাবি, ইরান সরকার মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে।
বাংলাদেশের আইনজীবী সারা হোসেনের নেতৃত্বাধীন ইরান বিষয়ক এই অনুসন্ধানী মিশন স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত। জাতিসংঘের শীর্ষ মানবাধিকার সংস্থা মানবাধিকার পরিষদ ২০২২ সালে এটি গঠন করে।