ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় অনতিবিলম্বে পুনর্গঠন কাজ শুরু করার আহ্বান জানিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ইসরায়েলের ওপর চাপ বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান। নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি এই আহ্বান জানান।
ভাষণে গাজার মানবিক বিপর্যয় তুলে ধরে এরদোয়ান বলেন, আমাদের কোনও সময় নষ্ট না করে গাজার পুনর্গঠন শুরু করা দরকার। এই বিষয়ে আমি ইসরায়েলের ওপর আরও বেশি চাপ প্রয়োগের আহ্বান জানাচ্ছি।
গাজাকে শিশুদের সবচেয়ে বড় কবরস্থান হিসেবে বর্ণনা করে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং বলেন, গাজা হলো আমাদের যুগের সবচেয়ে অমানবিক এবং সবচেয়ে লজ্জাজনক কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্প (বন্দিশালা)।
তিনি জানান, গত তিন বছরে ইসরায়েলি রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের শিকার হয়ে গাজায় ৭৪ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন, যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু।
ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস টানা দ্বিতীয় বছরের মতো অধিবেশনে উপস্থিত হতে না পারায় দুঃখ প্রকাশ করে তুর্কি প্রেসিডেন্ট বলেন, আব্বাস সশরীরে উপস্থিত থাকতে না পারলেও তুরস্ক ফিলিস্তিনের স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের কণ্ঠস্বর হিসেবে কথা বলে যাবে।
১৯৬৭ সালের সীমানার ভিত্তিতে পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের প্রচেষ্টাকে থামানো যাবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে।
জাতিসংঘের ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করে এরদোয়ান বলেন, ৮১ বছর আগে শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য প্রতিষ্ঠিত এই সংস্থাটি তার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে। নিরাপত্তা পরিষদ সংস্কারের দাবি পুনর্ব্যক্ত করে তিনি তার বিখ্যাত উক্তি তুলে ধরে বলেন, বিশ্ব পাঁচ দেশের চেয়েও বড়। অর্থাৎ মাত্র পাঁচটি স্থায়ী সদস্য দেশের ওপর ১৯০টিরও বেশি দেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করা কোনোভাবেই ন্যায়সংগত নয়।
এ ছাড়া তার দীর্ঘ ভাষণে এরদোয়ান সিরিয়া, ইরাক, ইউক্রেন যুদ্ধ, সাইপ্রাস ইস্যু এবং বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা করেন। ইসলামবিদ্বেষ এবং এআই-এর আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামোর প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে আমরা কষ্ট সহ্য করব, মূল্য দেব; কিন্তু অন্যায়ের মুখে চুপ থাকব না এবং জুলুমের কাছে নতি স্বীকার করব না।
সূত্র: আনাদোলু