ভারত মহাসাগর পর্যন্ত যুদ্ধ ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি ইরানের

যুক্তরাষ্ট্র আবার হামলা চালালে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ ভারত মহাসাগর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির উপদেষ্টা ইয়াহিয়া রহিম সাফাভি। বার্তা সংস্থা ফারর্সের বরাতে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভ এ খবর জানিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) এক ভিডিও বার্তায় সাফাভি বলেন, সংঘাত ইতোমধ্যে পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালি থেকে লোহিত সাগর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। আরও যুদ্ধ হলে এর বিস্তৃতি আরও বাড়তে পারে এবং ভারত মহাসাগর, এমনকি এর বাহিরেও পৌঁছাতে পারে।

সৌদি আরব-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াইরত ইয়েমেনের হুথিরা সম্প্রতি লোহিত সাগরের উপকূলীয় এলাকায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। এর ফলে এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে সুয়েজ খালের মাধ্যমে যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ পথ বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে তাদের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত হয়েছে।

ইরান দীর্ঘদিন ধরে হুথিদের সামরিক সহায়তা দিয়ে আসছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে ইয়েমেনের সংঘাতে সরাসরি জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করে তেহরান। এদিকে ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর প্রতিশোধ হিসেবে ইরানের উপকূলের হরমুজ প্রণালিও বন্ধ করে দিয়েছে তেহরান। যুদ্ধের আগে বিশ্বের বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে পরিবহন করা হতো।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান বর্তমানে হরমুজের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে পাল্টাপাল্টি অবস্থানে রয়েছে। এর আগে ইরানের কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্র আবার হামলা চালালে যুদ্ধের ভৌগোলিক পরিসর আরও বাড়ানোর হুমকি দিয়েছিলেন। তবে এবারই প্রথম ইরানের সর্বোচ্চ নেতার কোনও উপদেষ্টা সরাসরি ভারত মহাসাগরের কথা উল্লেখ করলেন। এই মহাসাগরেই ইরান থেকে প্রায় ৪ হাজার কিলোমিটার দূরে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের কৌশলগত সামরিক ঘাঁটি দিয়েগো গার্সিয়া অবস্থিত।

চলতি সপ্তাহে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে নিউইয়র্কে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে আলোচনায় বসেছেন। যুদ্ধ বন্ধের জন্য ইরান কয়েকটি শর্ত দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে দেশটির অর্থনীতির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং বিদেশে জব্দ থাকা ইরানের সম্পদ নিঃশর্তে মুক্ত করা।