গাজায় গণহত্যার অভিযোগ ‘শতাব্দীর সবচেয়ে বড় মিথ্যা’: জাতিসংঘে নেতানিয়াহু

গাজায় ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগকে ‘এই শতাব্দীর সবচেয়ে বড় মিথ্যা’ বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। একই সঙ্গে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার অধিকার ইসরায়েলের রয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে তার বক্তব্যের সময় প্রতিবাদে অধিবেশনস্থল থেকে বেরিয়ে যান বহু দেশের প্রতিনিধিরা। মার্কিন বার্তা সংস্থা এপি এ খবর জানিয়েছে।

বিশ্বনেতাদের কয়েক দিনব্যাপী বক্তব্যের পর সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেন নেতানিয়াহু। এসব বক্তব্যে গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধের নিন্দা এবং ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে গণহত্যার আয়োজনের অভিযোগ করা হয়। আগামী মাসের নির্বাচনে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে থাকা নেতানিয়াহু সমালোচকদের উদ্দেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় কয়েকবার আবেগপ্রবণ ও ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। সমালোচকদের মধ্যে নিউ ইয়র্কের মেয়রও ছিলেন।

কণ্ঠ উঁচু করে নেতানিয়াহু বলেন, ইরানে হামলা চালানো ছিল ‘আমার নেওয়া সবচেয়ে সহজ সিদ্ধান্তগুলোর একটি’। তার বক্তব্যের সময় অধিবেশনস্থল থেকে বেরিয়ে যাওয়া বহু প্রতিনিধিকে তিনি ‘নৈতিকভাবে কাপুরুষ’ বলে আখ্যায়িত করেন।

নেতানিয়াহু বলেন, আত্মরক্ষার মাধ্যমে ইসরায়েল এমন অনেক দেশকেও রক্ষা করছে, যেসব দেশের প্রতিনিধিরা এইমাত্র এই হল ছেড়ে চলে গেলেন। তিনি আরও বলেন, আমি আপনাদের জানাতে চাই, তাদের অনেক নেতা ব্যক্তিগতভাবে ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস করার জন্য আমাদের ধন্যবাদও জানান।

নেতানিয়াহু ভাষণ দেওয়ার জন্য মঞ্চে উঠতেই হলজুড়ে উল্লাস, দুয়োধ্বনি ও ব্যাপকভাবে প্রতিনিধিদের বেরিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। বহু প্রতিনিধি হল ছেড়ে বেরিয়ে যান এবং এরপর দৃশ্যমান আসনগুলোর অধিকাংশই খালি পড়ে থাকে। সাধারণ পরিষদের সভাপতি খলিলুর রহমানকে বারবার বলতে শোনা যায়, ‘দয়া করে হলের শৃঙ্খলা বজায় রাখুন’।

নেতানিয়াহু বলেন, এখনও যদি কোনও নৈতিকভাবে কাপুরুষ ব্যক্তি এই হলের ভেতরে থেকে থাকেন, তাহলে দয়া করে আপনারাও চলে যান।