সৌদি আরবকে সহযোগিতা করতে তুরস্কের পিছুটান কোথায়?

সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যকার মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে ওঠা সমালোচনার কড়া জবাব দিয়েছে আঙ্কারা। একই সঙ্গে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে রিয়াদকে সহায়তার ক্ষেত্র কেবল প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা হবে বলে স্পষ্ট সংকেত দিয়েছে দেশটি। লোহিত সাগরের কৌশলগত স্বার্থ এবং ইরানের সঙ্গে সম্পর্কের কথা মাথায় রেখে ইয়েমেনে কোনও ধরনের আক্রমণাত্মক অভিযানে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তুরস্ক।

শুক্রবার তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটির চিফ অব জেনারেল স্টাফ জেনারেল সেলচুক বায়রাকতারওগলু সৌদি আরবে গিয়ে সৌদি সেনাপ্রধান জেনারেল ফায়াদ বিন হামেদ আল-রুওয়াইলি এবং পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। রিয়াদে জরুরি এই সামরিক বৈঠকের আগে নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ অধিবেশনের ফাঁকে তিন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা চুক্তি বাস্তবায়নের প্রস্তুতি পর্যালোচনা করেন।

এক তুর্কি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, চুক্তি বাস্তবায়নে প্রথম ধাপে রিয়াদে একটি স্থায়ী সচিবালয় ও যৌথ সামরিক সদর দফতর প্রতিষ্ঠা করা হবে, যা আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ঘোষণা করা হতে পারে। অক্টোবরে গ্রীষ্মকালীন অবকাশ শেষে তুর্কি সংসদে চুক্তিটি অনুমোদিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তবে সৌদি আরবে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা বাড়তে থাকায় চুক্তির যৌথ প্রতিরক্ষা অনুচ্ছেদ নিয়ে প্রশ্ন ও সমালোচনা উঠেছে। গত বুধবার নিউ ইয়র্কে এক অনুষ্ঠানে এসব সমালোচনার জবাব দিয়ে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেন, এ সমালোচনা ন্যায্য নয়।

তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, ১৯৪৯ সালে প্রতিষ্ঠিত ন্যাটো কেবল একবারই ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পর তাদের যৌথ প্রতিরক্ষা অনুচ্ছেদ ব্যবহার করেছিল। ফিদান আরও বলেন, সমালোচকেরা ১০ বছরের এক সংকটের দিকে আঙুল তুলে বলছেন, দেখা যাক, এটি কাজ করছে না। আমরা তো কেবল যাত্রা শুরু করেছি।

আঙ্কারার দৃষ্টিকোণ থেকে, সৌদি ভূখণ্ড রক্ষা করা এবং ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে সরাসরি জড়িয়ে পড়ার মধ্যে বিশাল পার্থক্য রয়েছে। মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউটের তুর্কি কর্মসূচির প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক গোনুল তোল বলেন, আমি আশা করি না তুরস্ক হুথিদের বিরুদ্ধে কোনও আক্রমণাত্মক অভিযানে অংশ নেবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হুথিদের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক অবস্থান নিলে লোহিত সাগর ও হর্ন অব আফ্রিকা অঞ্চলে তুরস্কের বিশাল সামরিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থ ঝুঁকির মুখে পড়বে। বিশেষ করে সোমালিয়ায় তুরস্কের বৃহত্তম বৈদেশিক সামরিক ঘাঁটি রয়েছে এবং শত মিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগের পাশাপাশি সেখানে তেল অনুসন্ধান ও স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ কেন্দ্র তৈরি করছে আঙ্কারা। এ ছাড়া ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক অক্ষুণ্ন রাখাও আঙ্কারার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

গোনুল তোল আরও জানান, তুরস্কের ভূমিকা সীমাবদ্ধ থাকবে। আঙ্কারা প্রশিক্ষণ, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় সৌদি আরবকে সহযোগিতা করতে পারে।

এর আগে ১৯ সেপ্টেম্বর দেওয়া সাক্ষাৎকারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফিদানও একই ইঙ্গিত দিয়ে বলেছিলেন, সৌদি আরবের বিশেষ করে কিছু প্রযুক্তিগত বিষয়ে সামরিক চাহিদা থাকতে পারে। এসব পূরণ করতে আমাদের কোনও সমস্যা নেই।

সূত্র: আল-মনিটর