২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামাসের আক্রমণের আগে পাওয়া আগাম সতর্কবার্তার খবর অস্বীকার করার জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। এ উদ্দেশ্যে রবিবার তিনি গোপনে সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর করেছেন বলে জানিয়েছে মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক সংবাদমাধ্যম আল-মনিটর।
ইসরায়েলে আসন্ন নির্বাচনের প্রায় এক মাস আগে নেতানিয়াহু এই গোপন সফরে গেলেন, যেখানে তার লিকুদ পার্টি সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন মধ্যপন্থী ইয়াশার পার্টির চেয়ে পিছিয়ে রয়েছে। ফ্লাইট-ট্যাকিং ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর ব্যবহৃত একটি উড়োজাহাজে জর্ডান ও সৌদি আরবের ওপর দিয়ে ইসরায়েল থেকে আমিরাতে যায়। মার্কিন বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) জানায়, নেতানিয়াহু আমিরাতের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে এক ঘণ্টা দীর্ঘ আলোচনা করেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৭ অক্টোবরের আগে হামাসের সম্ভাব্য হামলা নিয়ে আমিরাত ও মিসরের পক্ষ থেকে নেতানিয়াহুকে সতর্ক করা হয়েছিল বলে ইসরায়েলি ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। গত ৮ সেপ্টেম্বর হারেৎজ পত্রিকায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ৭ অক্টোবরের প্রায় ১০ দিন আগে ৪৫ মিনিটের এক ফোনালাপে আমিরাতি প্রেসিডেন্ট নেতানিয়াহুকে সতর্ক করে জানান যে গাজায় হামাস নেতা ইয়াহিয়া সিনওয়ার অঞ্চলে একটি বড় ধরনের ‘ভূমিকম্প’ ঘটানোর পরিকল্পনা করছেন। তবে নেতানিয়াহু সেই সতর্কবার্তাকে গুরুত্ব দেননি এবং নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর সঙ্গেও তা শেয়ার করেননি। পরবর্তী সময়ে নিউ ইয়র্ক টাইমস ও দ্য আটলান্টিক পত্রিকার প্রতিবেদনেও আমিরাত ও মিসরের সাবেক গোয়েন্দা প্রধান আব্বাস কামেলের পক্ষ থেকে নেতানিয়াহুকে সরাসরি সতর্কবার্তা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
হুমকির বার্তাগুলো উপেক্ষা করার বিষয়ে সমালোচনার মুখে পড়ে নেতানিয়াহু আবুধাবি বিমানবন্দরে আমিরাতি প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ওই প্রতিবেদনগুলোর বিষয়ে তার কাছে নৈতিক সমর্থন ও প্রকাশ্যে অস্বীকৃতি জানানোর অনুরোধ জানান। যদিও নেতানিয়াহুর কার্যালয় কোনও বৈদেশিক উৎস থেকে সতর্কবার্তা পাওয়ার কথা অস্বীকার করেছে এবং আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় জানিয়েছে তারা নেতাদের মধ্যে আলোচনার বিষয়টি নিয়ে ‘জল্পনা-কল্পনার’ নিয়ে কোনও মন্তব্য করবে না।
এদিকে সিএনএন জানিয়েছে, বৈঠকে দুই নেতার মধ্যে ইরান সংক্রান্ত আলোচনা প্রাধান্য পায়। চলতি বছরে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ চলাকালে দুই দেশের নিরাপত্তা সহযোগিতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এই যুদ্ধের শুরুতে ইসরায়েল সংযুক্ত আরব আমিরাতে একটি আয়রন ডোম প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং পরিচালনাকারী কর্মী পাঠায় বলেও জানা গেছে।