১৮৬০ হুথি যোদ্ধাকে ‘নিষ্ক্রিয়’ করার দাবি ইয়েমেনি সেনাবাহিনীর

হুথিদের নিয়ন্ত্রণাধীন ভূখণ্ড পুনর্দখলে বড় আকারের পাল্টা অভিযান শুরুর পর থেকে ১ হাজার ৮৬০ হুথি যোদ্ধাকে ‘নিষ্ক্রিয়’ করার দাবি করেছে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী। হুথিরা আনসারুল্লাহ বা সাপোর্টার্স অব গড নামেও পরিচিত। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।

আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র বৃহস্পতিবার ভোরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে জানান, চলমান ডন অব ইয়েমেন অভিযানের অংশ হিসেবে একাধিক রণাঙ্গনে হুথিদের সামরিক অবস্থানে ২ হাজার ১০৩টি নিখুঁত লক্ষ্যভেদী অভিযান চালানো হয়েছে। সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেন সরকার আরও জানিয়েছে, পশ্চিম তাইজে উপকূলের দিকে মুখ করা কৌশলগত পাহাড়ি অবস্থান তাদের বাহিনী দখলে নিয়েছে।

রবিবার ইয়েমেনের প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের চেয়ারম্যান রাশাদ আল-আলিমি রাজধানী সানাসহ হুথিদের দখলে থাকা সব এলাকা পুনর্দখলে ডন অব ইয়েমেন অভিযানের ঘোষণা দেন। ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীটি ২০১৪ সাল থেকে সানা নিয়ন্ত্রণ করছে।

সাম্প্রতিক দিনগুলোতে লড়াই কেন্দ্রীভূত হয়েছে বাব আল-মান্দেব প্রণালির আশপাশে। ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্য সীমিত হওয়ার পর জ্বালানি রপ্তানির জন্য এই জলপথ আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। গত মাসে হুথিদের দখলে নেওয়া প্রণালির কাছের কৌশলগত এলাকা এবং মোখা শহরের আশপাশ পুনর্দখলে মঙ্গলবার অভিযান শুরু করে সরকার-সমর্থিত বাহিনী।

সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট বুধবার জানায়, সাদা, হোদেইদা, আল-জাওফ ও মারিব প্রদেশে হুথিদের ৮২টি সামরিক লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করা হয়েছে। জোটের মুখপাত্র এক বিবৃতিতে বলেন, লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ছিল ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনা, যার মধ্যে সাদায় পাহাড়ে অবস্থিত ১১টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মজুতকেন্দ্র, কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র, যোগাযোগব্যবস্থা এবং ক্ষেপণাস্ত্র ও অস্ত্রের গুদাম।

মুখপাত্রের ভাষ্য, মঙ্গল ও বুধবার রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুথিদের হামলার পরই এই অভিযান চালানো হয়।