সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের বাদশাহ খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করে আবার হামলা চালানো হয়েছে। ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত হুথিরা সৌদি আকাশসীমা ও বিমানবন্দর এড়িয়ে চলার চরম হুঁশিয়ারি দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে রবিবার এই হামলা ঘটে। এতে বিমানবন্দরে একটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, রিয়াদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একটি ‘অজ্ঞাত বস্তু’ আঘাত হানায় অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়। বস্তুটিকে চার নম্বর টার্মিনালকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছিল। এ ছাড়া বিমানবন্দরের কাছেই একটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে সৌদি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।
এর আগের দিন শনিবারে এই বিমানবন্দরেই এক হামলায় ১২ জন নিহত ও ৩০০ জনের বেশি আহত হন। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে চারজন সৌদি, দুজন বাংলাদেশি এবং যুক্তরাষ্ট্র, জর্ডান, ফিলিস্তিন, সিরিয়া, সুদান ও মিসরের নাগরিক রয়েছেন। এর মাধ্যমে গত এক সপ্তাহে বিমানবন্দরটিতে তিনবার হামলা হলো। এসব হামলার কারণে বিমানবন্দরটি বর্তমানে বন্ধ রাখা হয়েছে।
ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী এক বিবৃতিতে বলেছে, মক্কা ও মদিনার বিমানবন্দর ছাড়া বাকি সব সৌদি বিমানবন্দর ও আকাশসীমা আমাদের অভিযানের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। আমরা সব এয়ারলাইনস, কর্মী ও যাত্রীদের রিয়াদসহ অন্যান্য বিমানবন্দর ব্যবহার না করার সতর্কবার্তা দিচ্ছি।
ইয়েমেনের হুথি পরিচালিত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সৌদিকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, সৌদি শত্রু যদি ইয়েমেনে তাদের আগ্রাসন ও হস্তক্ষেপ বন্ধ না করে, তবে সামনে আরও ভয়াবহ পরিস্থিতি আসছে।
এদিকে সৌদি আরবের ওপর একের পর এক হামলা সত্ত্বেও দেশটির জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রিয়াদে পূর্বনির্ধারিত আন্তর্জাতিক ডব্লিউপিসি এনার্জি কংগ্রেস ও মন্ত্রী পর্যায়ের এনার্জি ফোরামের সম্মেলন বহাল থাকছে। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে দেশটিতে রবিবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনলাইন ক্লাসের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, হুথিদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র অংশ নেওয়ার কথা বিবেচনা করছে।
সূত্র: রয়টার্স