২০ কোটি ডলারের রাজকীয় প্রকল্প এখন নির্জন ভৌতিক শহর

অত্যাধুনিক বিলাসবহুল রিসোর্ট, বিশ্বমানের অ্যাকুয়া পার্ক, স্পা এবং প্রায় ২০ কোটি মার্কিন ডলার ব্যয়ে নির্মিত এক রাজকীয় নগরী, নাম তার বুর্জ আল বাবাইস। কিন্তু বিশাল সম্ভাবনা আর জাঁকজমক নিয়ে শুরু হওয়া সেই ফ্রাঙ্কো-ইউরোপীয় স্থাপত্যের ড্রিম প্রজেক্টটি এখন চরম অনিশ্চয়তায় স্থবির হয়ে এক নির্জন ভৌতিক শহরে রূপ নিয়েছে।

তুরস্কের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের মুদুরনু শহর থেকে মাত্র কয়েক কিলোমিটার দক্ষিণে গেলে চোখে পড়ে এক অদ্ভুত ও ভূতুড়ে দৃশ্য। মধ্যপ্রাচ্যের প্রাণকেন্দ্রে ইউরোপীয় নান্দনিকতার ছোঁয়া দিতে সারোত গ্রুপ ২০১৪ সালে ৭৩২টি ফরাসি স্থাপত্যশৈলীর গথিক ধাঁচের দুর্গ তৈরির লক্ষ্য নিয়ে বুর্জ আল বাবাইসের কাজ শুরু করে। চারটি পাহাড়ি উপত্যকার মাঝে সবুজ বনের গা ঘেঁষে গড়ে ওঠা এই প্রাসাদগুলোর প্রতিটির আনুমানিক মূল্য ধরা হয়েছিল ৩ লাখ ৩০ হাজার থেকে ৪ লাখ ৪০ হাজার পাউন্ড। প্রতিটি বাড়িতে আন্ডারফ্লোর হিটিং, প্রতি স্তরে জ্যাকুজি এবং কেন্দ্রীয় স্পা সেন্টারের জন্য জিওথার্মাল ঝরনার ব্যবহারের মতো রাজকীয় আয়োজন রাখা হয়েছিল।

তবে চার বছরের নির্ধারিত সময়সীমায় কাজ শেষ হতে না হতেই শুরু হয় নানা বিপত্তি। অর্থনৈতিক মন্দা, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর নান্দনিক আপত্তি এবং পরিবেশগত প্রভাবের কারণে উদ্যোক্তারা চরম আর্থিক সংকটে পড়েন। একপর্যায়ে ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের ওপর ২৪ মিলিয়ন পাউন্ডের ঋণ চেপে বসে এবং তারা দেউলিয়া হয়ে পড়ে। পরিকল্পনাধীন ৭৩২টি বাড়ির মধ্যে ৫৮৩টির কাজ আংশিক শেষ হলেও অর্থসংকটে বন্ধ হয়ে যায় মূল নির্মাণকাজ।

২০১৯ সালে বিনিয়োগকারী ও ক্রেতারা মুখ ফিরিয়ে নিলেও সারোত গ্রুপ আশা প্রকাশ করেছিল যে ২০ কোটি পাউন্ডের এই প্রকল্পটি শেষ করা সম্ভব হবে। কিন্তু পরবর্তীতে বিশ্বব্যাপী মহামারির আঘাতে সব আশা ভেস্তে যায় এবং পুরো এলাকাটি পুরোপুরি পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে। দূর থেকে দেখলে ডিজনি সিনেমার কোনও রাজকীয় জাদুনগরীর মতো মনে হলেও কাছে গেলে দেখা মেলে আংশিক নির্মিত প্রাসাদ, ভাঙাচোরা ল্যান্ডস্কেপিং এবং কোনও মানুষের উপস্থিতি না থাকা এক খাঁ খাঁ ভূতুড়ে পরিবেশ।

বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম ব্যয়বহুল ও বৃহৎ ভৌতিক শহর হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে বুর্জ আল বাবাইস। যদিও এটি আবার আগের রূপে ফিরে আসার খুব সামান্য সম্ভাবনা রয়েছে, তবুও অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ এবং বৈরী বাস্তবতার কারণে আপাতত সময় জমে থাকা এক ধ্বংসস্তূপ হিসেবেই টিকে রয়েছে তুরস্কের এই রাজকীয় প্রাসাদগুলো।

সূত্র: রিপলি’স