আগামী মঙ্গলবারের নির্বাচনে রাজনৈতিক অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে নেমেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। চূড়ান্ত ভোটগ্রহণের আগে নিজের অবস্থান শক্ত করতে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে আরও জোরালো ও প্রকাশ্য সমর্থনের জন্য আকুতি জানিয়েছেন তিনি। বিশ্বস্ত মার্কিন সূত্র ও ইসরায়েলি একটি সূত্রে বরাতে অ্যাক্সিওস এ খবর জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ওই সূত্রটি জানিয়েছে, হোয়াইট হাউস নেতানিয়াহুর এই আগ্রাসী তদবিরকে তার মরিয়া মনোভাব এবং নির্বাচনে পিছিয়ে পড়ার শঙ্কার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছে।
সূত্রের তথ্য মতে, নেতানিয়াহু গত তিন দিনে ট্রাম্পের সঙ্গে দুবার কথা বলেছেন এবং গত সপ্তাহে ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া সমর্থনমূলক পোস্টটির মতো আরও বার্তা দেওয়ার অনুরোধ করেছেন। এমনকি সমর্থনের জন্য কী বক্তব্য দেওয়া যেতে পারে, তার একটি খসড়াও তিনি প্রস্তাব করেছেন। অন্য একটি ইসরায়েলি সূত্র জানায়, নেতানিয়াহু প্রস্তাব করেছিলেন যেন ট্রাম্প ইসরায়েলি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে নিজের সমর্থন ব্যক্ত করেন।
কয়েক সপ্তাহের দ্বিধাদ্বন্দ্ব শেষে গত রবিবার ট্রাম্প আনুষ্ঠানিকভাবে নেতানিয়াহুকে সমর্থন জানান। তিনি এমনকি ইঙ্গিত দেন যে নেতানিয়াহুর পরাজয় মার্কিন-ইসরায়েল সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
নির্বাচনের আগে শুক্রবার প্রকাশিত তিনটি প্রধান ইসরায়েলি টেলিভিশন নেটওয়ার্কের চূড়ান্ত জরিপে দেখা গেছে, ১২০ আসনবিশিষ্ট নেসেটে (পার্লামেন্ট) নেতানিয়াহুর জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা (৬১ আসন) থেকে অনেক দূরে রয়েছে। চূড়ান্ত জরিপগুলোতে তার জোটের জন্য মাত্র ৫০টি আসনের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, যা বর্তমান আসনের চেয়ে ১৭টি কম। এর মধ্যে তার নিজ দল লিকুদ পার্টি পেতে পারে মাত্র ২০টি আসন।
অন্যদিকে সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট ৫২ থেকে ৫৬টি আসন পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কেবল নেতানিয়াহুপন্থি চ্যানেল ১৪-এর জরিপে তার জোটকে ৬০টি আসন দেওয়া হয়েছে।
একজন মার্কিন কর্মকর্তা ট্রাম্পের এই সমর্থনকে একটি সফল কৌশল হিসেবে বর্ণনা করেছেন। নেতানিয়াহু বিজয়ী হলে ট্রাম্প রাজনৈতিকভাবে তাকে রক্ষার কৃতিত্ব নিতে পারবেন এবং চাপ সৃষ্টি করে সুবিধা আদায় করতে পারবেন। আর নেতানিয়াহু পরাজিত হলে ইসরায়েলের নতুন সরকারও ট্রাম্পের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রাখতে আগ্রহী হবে। এছাড়া ট্রাম্পের কিছু উপদেষ্টা মনে করছেন, অন্য কারও নেতৃত্বে ইসরায়েলি সরকার গঠিত হলে মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে ট্রাম্পের এজেন্ডা বাস্তবায়ন আরও সহজ হতে পারে।