‘বিদেশি সত্তা’ নির্বাচন চুরি করেছে, দাবি নেতানিয়াহুর দল লিকুদের

ইসরায়েলে নজিরবিহীন আরব ভোটারদের উপস্থিতি ক্ষমতাসীন জোটকে নিরঙ্কুশ জয় থেকে বঞ্চিত করার পর এ সপ্তাহের নির্বাচনকে ‘চুরি’ করা হয়েছে বলে দাবি করেছে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দল লিকুদ।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ পোস্ট করা এক বিবৃতিতে লিকুদ পার্টি দাবি করেছে, ইসরায়েলের নির্বাচন চুরি করা হয়েছে। তারা কোনও প্রমাণ না দিয়ে অভিযোগ করে যে, ‘বিদেশি সত্তা’ দেশের পার্লামেন্ট নেসেটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেছে।

নেতানিয়াহুর নিযুক্ত প্রধানের অধীনে থাকা অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা শিন বেট-এর পক্ষ থেকে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে অভিযোগ পেশের পর এ দাবি তোলা হয়। নির্বাচন কমিশনার নোয়াম সোহলবার্গ বৃহস্পতিবার এক চিঠিতে জানান, বিদেশি অর্থায়নের মাধ্যমে নির্বাচনে অনুচিত প্রভাব ফেলার গুরুতর সন্দেহ তার নজরে আনা হয়েছে। তিনি বিষয়টির পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

তবে নির্বাচন চলাকালীন শিন বেট-এর প্রধান ডেভিড জিনি ইসরায়েলি মাধ্যমকে বলেছিলেন, আমরা ইসরায়েলি নাগরিকদের বলতে পারি যে ইসরায়েলের নির্বাচন সুরক্ষিত, যথাযথ এবং পর্যবেক্ষণাধীন নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হয়েছে।

নেতানিয়াহুর উগ্র-ডানপন্থি অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ দাবি করেছেন, আরব দলগুলোর নেতাদের আজই শিন বেটের জিজ্ঞাসাবাদ করা উচিত।

এছাড়া জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির দাবি করেন, বিদেশি অর্থায়ন (বিশেষ করে কাতার) আরবদের রেকর্ড ভোটে উৎসাহিত করেছে।

তবে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল আনসারি এ অভিযোগকে ‘হাস্যকর ও বিপজ্জনক’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। যৌথ তালিকাভুক্ত পার্লামেন্টারি ব্লকের আহমেদ তিবি বলেন, নির্বাচনে কোনও নিয়ম লঙ্ঘন হয়নি এবং লিকুদের অভিযোগগুলো পরাজিতদের কথা।

আরব দলের নেতা সামি আবু শেহাদেহ বলেন, যেকোনও কার্যকর গণতন্ত্রে যারা নির্বাচনে হারে তারা দায়িত্ব নিয়ে বাড়ি ফিরে যায়। আর ইসরায়েলে বিজিত পক্ষ বর্ণবাদী অভিযোগ তুলে নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করে।

অন্যদিকে, বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকোট তদন্ত সমর্থন করলেও সতর্ক করে বলেন, নেতানিয়াহু জনসমক্ষে এক অবৈধ প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন যাতে নির্বাচনের ফলাফল বিলম্বিত এবং নেসেটের কার্যক্রমকে অবৈধ ঘোষণা করা যায়।

ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগ মন্তব্য করেছেন, অভিযোগগুলোর তদন্ত প্রয়োজন হলেও পুরো একটি জনগোষ্ঠীকে কলঙ্কিত করা থেকে বিরত থাকতে হবে, যারা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে চেয়েছিল।

সূত্র: ফিন্যান্সিয়াল টাইমস