ইরানে যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক হামলা চালালে ভারত ও পাকিস্তানের কী হবে?

ইরানের সন্দেহভাজন ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক কেন্দ্র পিকঅ্যাক্স পর্বতে মার্কিন পারমাণবিক হামলার শঙ্কা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুরাগী ও সাবেক ফক্স নিউজ সঞ্চালক টাকার কার্লসন দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র এই কেন্দ্রে পারমাণবিক হামলার কথা বিবেচনা করছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেও এমন কোনও হামলার সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেননি। হামলা চালানো হলে এর তেজস্ক্রিয় প্রভাব ইরান ছাড়িয়ে আবহাওয়া ভেদে পাকিস্তান ও ভারতের উত্তর-পশ্চিম অঞ্চল পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

ইরানের মধ্যঞ্চলীয় ইস্পাহান প্রদেশে অবস্থিত পিকঅ্যাক্স পর্বত ভারত থেকে প্রায় ২ হাজার ৫০০ কিলোমিটার দূরে। এই কেন্দ্রটি ভূপৃষ্ঠ থেকে ৩২৮ ফুট গভীরে অবস্থিত, যা ফোর্দো ও নাতাঞ্জের চেয়েও গভীর। যুক্তরাষ্ট্রের বাঙ্কার-বাস্টার বোমা মাত্র ৬০ ফুট গভীর পর্যন্ত আঘাত হানতে পারায় এই পর্বত ধ্বংস করতে পারমাণবিক হামলাকেই একমাত্র সামরিক বিকল্প হিসেবে ভাবা হচ্ছে।

সোমবার সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের অধিকাংশ পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস করেছে, তবে এখনও দু-একটি লক্ষ্যবস্তু বাকি। ফক্স নিউজকে তিনি বলেন, আমাদের পিকঅ্যাক্স পর্বতে হামলা চালাতে হতে পারে। আমরা যখনই চাই, এক ঘণ্টার মধ্যে তা করতে পারি।

তবে এর আগে নিউজমেক্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেছিলেন, আমি পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করব না, আমাদের তার প্রয়োজন নেই।

অন্যদিকে টাকার কার্লসন দাবি করেন, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর চাপে পড়ে ট্রাম্প হয়তো কয়েক দিনের মধ্যেই এই হামলার নির্দেশ দেবেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই হামলা পারস্য উপসাগরে তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে দেবে এবং রাশিয়া, ভারত, পাকিস্তান ও উত্তর কোরিয়াকে টেনে এনে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ ত্বরান্বিত করতে পারে। তবে কার্লসনের এই দাবির পেছনে কোনও আনুষ্ঠানিক তথ্যের প্রমাণ মেলেনি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তা ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয়েছে।

ভূরাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ মারিও নাওফালের তৈরি একটি গাণিতিক মডেল অনুয়াযী, এই হামলায় সৃষ্ট তেজস্ক্রিয় মেঘ বাতাসের গতিপথে পূর্ব দিকে প্রবাহিত হলে আফগানিস্তান ও পাকিস্তান সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বাতাসের দিক ও গতিবেগ অনুযায়ী এটি ভারতের পাঞ্জাব, রাজস্থান, জম্মু-কাশ্মীর ও গুজরাটেও হালকা মাত্রায় পৌঁছাতে পারে।

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ সন্দীপ উন্নিথান জানান, বোমার শক্তি ও আবহাওয়ার ওপর তেজস্ক্রিয়তার মাত্রা নির্ভর করবে। তিনি বলেন, পারমাণবিক বিস্ফোরণ ঘটলে সিংহভাগ তেজস্ক্রিয়তা বিস্ফোরণস্থলের আশপাশেই সীমাবদ্ধ থাকবে। বাতাসের কারণে কিছু অংশ পূর্বে পাকিস্তান ও উত্তর-পশ্চিম ভারতে গেলেও দূরত্বের কারণে তা অতি সামান্য বা ‘ট্রেস লেভেল’-এ নেমে আসবে।

অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল এস বি অ্যাস্থানা এক এক্স বার্তায় জানান, যেকোনও পারমাণবিক পদক্ষেপ অবিলম্বে ইরানের জন্য এবং পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ধ্বংসাত্মক হবে। তিনি বলেন, এর তেজস্ক্রিয় তরঙ্গ কুয়েত, জর্ডান এবং যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র পাকিস্তানের দিকে ছড়িয়ে পড়বে। পাশাপাশি এটি ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ করতে কিয়েভে পারমাণবিক হামলা চালানোর জন্য রাশিয়ার পথও খুলে দেবে। ফলে ট্রাম্প যদি এই সিদ্ধান্ত নেন, তবে এটি কেবল স্থানীয় কোনও সংকট হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকবে না।

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে