ইসরায়েলের জাতীয় নির্বাচনের পর সরকার গঠন নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকট বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) পার্লামেন্টের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের সমর্থন পাওয়ার পথে এগিয়েছেন। আরব-প্রধান জোট জয়েন্ট লিস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে তার প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। এর আগে আরেকটি আরব দল রা’আমও তাকে সমর্থনের কথা জানায়। তবে এই সমর্থন নিয়ে আইজেনকট কীভাবে এগোবেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল এ খবর জানিয়েছে।
১২০ সদস্যের নেসেটে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ৬১টি আসন। নির্বাচনে নেতানিয়াহুর ডানপন্থি ও অতি-গোঁড়া ধর্মীয় দলগুলোর জোট পেয়েছে ৫৩ আসন। অন্যদিকে আইজেনকটের মধ্যপন্থি ইয়াশার পার্টিসহ কয়েকটি দলের জোট পেয়েছে ৪৮ আসন। আরব নেতৃত্বাধীন জয়েন্ট লিস্ট ও রা’আম পেয়েছে যথাক্রমে ১১ ও আটটি আসন।
দুই আরব জোটের সমর্থন পেলে আইজেনকটের পক্ষে ৬৭ জন আইনপ্রণেতার সমর্থন পাওয়া সম্ভব। অন্যদিকে নেতানিয়াহুর দীর্ঘদিনের মিত্র ইউনাইটেড তোরাহ জুদাইজম (ইউটিজে) কোনও প্রার্থীর নাম সুপারিশ না করায় তার পক্ষে সুপারিশ করা আইনপ্রণেতার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৬-এ।
প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ রবিবারের মধ্যে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়ার জন্য একজন প্রার্থী মনোনীত করবেন। মনোনীত ব্যক্তি ২৮ দিন সময় পাবেন। প্রয়োজনে আরও ১৪ দিন বাড়ানো যাবে। তবে সংখ্যাগরিষ্ঠের সুপারিশ পেলেই যে সরকার গঠন নিশ্চিত, তা নয়।
তিন সম্ভাব্য সমীকরণ
আরব দলগুলোর সমর্থনে সংখ্যালঘু সরকার: আইজেনকট আরব দলগুলোর বাইরে থেকে সমর্থন নিয়ে সংখ্যালঘু সরকার গঠন করতে পারেন। রা’আম সরাসরি জোটে যোগ দিতে আগ্রহী। জয়েন্ট লিস্ট সরকারে না গিয়ে বাইরে থেকে সমর্থন দেওয়ার কথা ভাবছে। তবে ইসরায়েলের আরব জনগোষ্ঠীর সুরক্ষার নিশ্চয়তা চায় তারা।
আইজেনকট আগে আরব দলগুলোর সমর্থনে সরকার গঠনের বিরোধিতা করেছেন। ৩১ অক্টোবর তিনি সম্ভাব্য সরকারের জন্য চারটি শর্ত জানান। এর মধ্যে রয়েছে ইসরায়েলকে ইহুদি, গণতান্ত্রিক, উদার ও সমতাভিত্তিক রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি, সব নাগরিকের জন্য সামরিক বা জাতীয় সেবা এবং গাজায় হামাসের সামরিক ও শাসনক্ষমতা বিলুপ্ত করা। এসব শর্তে আরব দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতা কঠিন হতে পারে।
ইউটিজের সমর্থন: নেতানিয়াহুর মিত্র ইউটিজেকে পাশে টানার চেষ্টা করতে পারেন আইজেনকট। হেরেদি ধর্মীয় শিক্ষার্থীদের সামরিক সেবায় ছাড় বজায় রাখতে ব্যর্থ হওয়ায় নেতানিয়াহুর ওপর অসন্তুষ্ট দলটি। চ্যানেল ১২-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামরিক সেবার বিষয়ে সমঝোতার বিনিময়ে আইজেনকটের সরকারকে বাইরে থেকে সমর্থনের বিষয়টি বিবেচনা করেছিল ইউটিজে।
দলটির সাত আইনপ্রণেতা আস্থা ভোটে বিরত থাকলে এবং অন্যরাও ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকলে আইজেনকট ৪৮ ভোটে নেতানিয়াহুর ৪৬ ভোটকে ছাড়িয়ে যেতে পারেন। তবে সরকার চালাতে আইন ও বাজেট পাসের জন্য নিয়মিত সমর্থন প্রয়োজন হবে। সামরিক সেবায় ছাড় বজায় রাখার দাবি এবং আইজেনকটের সবার জন্য জাতীয় সেবার শর্ত এ সমঝোতার বড় বাধা।
জাতীয় ঐক্যের সরকার: নেতানিয়াহু ও তার বিরোধীদের নিয়ে জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনের সম্ভাবনাও রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীত্ব পালাক্রমে ভাগ করে নেওয়ার ব্যবস্থাও হতে পারে। তবে আইজেনকট নেতানিয়াহুর অধীনে কাজ করার সম্ভাবনা নাকচ করেছেন। বিরোধীরাও তাকে ক্ষমতা থেকে সরানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রচার চালিয়েছেন।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর বেনি গান্তজ ও আইজেনকট রাজনৈতিক মতপার্থক্য সত্ত্বেও নেতানিয়াহুর জরুরি যুদ্ধকালীন সরকারে যোগ দিয়েছিলেন। তবে ২০২০ সালে নেতানিয়াহু ও গান্তজের ক্ষমতা ভাগাভাগির সমঝোতা ভেঙে পড়েছিল।