মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয়ের পর ৪ নভেম্বর ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার ও প্রধান মধ্যস্থতাকারী মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, আমেরিকানরা যুদ্ধকে প্রত্যাখ্যান করেছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ওয়াশিংটন জনগণের এই বার্তা উপেক্ষা করলে বড় ধরনের সংকটে পড়বে।
তবে এই মন্তব্যকে কেবল ওয়াশিংটনের সংঘাতের মানসিকতার ওপর একটি নিয়ন্ত্রণ হিসেবে দেখছে তেহরান। ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে মার্কিন নির্বাচনের তাৎপর্য এবং কূটনৈতিক আলোচনার লক্ষ্য এখন অনেকটাই বদলে গেছে।
সাবেক প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানির আমলে চুক্তি ও আলোচনার মূল উদ্দেশ্য ছিল মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন। কিন্তু ২০২৫ সালের জুনের ১২ দিনের যুদ্ধ এবং ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের পর তেহরানের বর্তমান মধ্যস্থতাকারীদের প্রধান লক্ষ্য বর্তমান সংঘাতের সমাপ্তি টানা এবং ভবিষ্যৎ আক্রমণ প্রতিরোধ করা। ২০১৫ সালের ঐতিহাসিক পারমাণবিক চুক্তির স্থপতি মোহাম্মদ জাওয়াদ জারিফও এখন কূটনীতিকে ‘প্রতিরোধ কৌশল’-এর অংশ হিসেবে দেখছেন।
ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মহসেন রেজাই জানান, দীর্ঘমেয়াদে আলোচনা ঝুলিয়ে রাখার কোনও ইচ্ছে তাদের নেই। তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য সংঘাত এমন শর্তে শেষ করা, যাতে পুনরায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার ঝুঁকি কমে।
তিনি স্পষ্ট জানান, শুধু ‘রাজনৈতিক সদিচ্ছা’র ওপর ভিত্তি করে করা চুক্তিতে ইরানের আর আগ্রহ নেই। তেহরানের প্রস্তাব অনুযায়ী, সমুদ্র অবরোধ প্রত্যাহারসহ যুক্তরাষ্ট্রকে আগে নিজেদের অঙ্গীকার পূরণ করতে হবে, যার পরই কেবল ওমানের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করবে ইরান।
অক্টোবরের শেষের দিকে এক সাক্ষাৎকারে জাওয়াদ জারিফ বলেছিলেন, কূটনীতি কোনও রাজনৈতিক বিশ্বাস নয়, এটি একটি হাতিয়ার মাত্র। তার মতে, জাতীয় নিরাপত্তা নির্ভর করে সামরিক শক্তি, কূটনীতি, অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও সামাজিক ঐক্যের ওপর। ২০১৫ সালে যেখানে অর্থনৈতিক সংস্কারই ছিল প্রধান লক্ষ্য, সেখানে আজ কূটনীতিকে সামরিক প্রতিরোধের পরিপূরক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গত ৩১ অক্টোবর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে যেকোনও আক্রমণের তাৎক্ষণিক ও কার্যকর জবাব দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের ফলকে তেহরান কোনও নমনীয়তার সুযোগ হিসেবে দেখছে না, বরং সংঘাতের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ব্যয় ওয়াশিংটন কতটা সহ্য করতে প্রস্তুত, সেটিই পর্যবেক্ষণ করছে।
সূত্র: আল-মনিটর