কয়েক মাস ধরে চলা নৌ অবরোধের ধারাবাহিকতায় ইরানের স্থল সীমান্ত ও কাস্পিয়ান সাগর দিয়ে উন্নত অস্ত্র ও অন্যান্য নিষেধাজ্ঞাভুক্ত সামগ্রী চলাচল ঠেকাতে একটি টাস্ক ফোর্স গঠন করছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। শনিবার তারা এ কথা জানায়। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
রয়টার্স প্রথম টাস্ক ফোর্স আয়রন গেট-এর খবর দেয়। ফ্লোরিডার টাম্পাভিত্তিক এ টাস্ক ফোর্স যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করবে। অস্ত্র চলাচলের পাশাপাশি ইরানের ব্যবহৃত দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তির প্রবাহ বন্ধ এবং ওয়াশিংটনের ভাষায় অবৈধ আয়ের উৎস ঠেকানোর দিকেও এটি মনোযোগ দেবে।
ইসরায়েলের সঙ্গে মিলে ইসলামি প্রজাতন্ত্রটির বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর আট মাসের বেশি সময় পরও তেহরানের ওপর চাপ বাড়ানোর পথ খুঁজছে যুক্তরাষ্ট্র। এ টাস্ক ফোর্স গঠন তারই সর্বশেষ উদাহরণ।
মার্কিন হামলা ইরানের প্রচলিত সামরিক শক্তিতে বিধ্বংসী আঘাত হেনেছে। মার্কিন নৌ অবরোধ হরমুজ প্রণালি ও আরব সাগর দিয়ে দেশটির অপরিশোধিত তেল রফতানি মারাত্মকভাবে সীমিত করেছে। তবু ইরান এখনও অঞ্চলের জন্য বড় হুমকি, আর দেশটির শাসকেরা নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত করেছেন।
ইরানের গোপন নেটওয়ার্ক
রয়টার্সের এক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে মার্কিন নৌ অবরোধ ও পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে অন্তত ২০০ কোটি ডলারের সরঞ্জাম, বিস্ফোরক ও ভারী ট্রাক আমদানিতে ইরান সামরিক সংস্থাগুলোর একটি গোপন নেটওয়ার্ক গড়েছে।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, এসব সামগ্রী রাশিয়া থেকে কাস্পিয়ান সাগর পেরিয়ে কার্গো জাহাজে, মধ্য এশিয়া থেকে ট্রাকে এবং চীন থেকে মালবাহী বিমানে ইরানে ঢুকেছে।
সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, টাস্ক ফোর্স অন্যান্য সরকারি সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করবে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা বলেন, এতে ট্রেজারি, স্টেট ও বিচার বিভাগের পাশাপাশি গোয়েন্দা সম্প্রদায়ও থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সেন্ট্রাল কমান্ডের কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার এক বিবৃতিতে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের আন্তঃসংস্থা অংশীদারদের সঙ্গে সেন্টকমের সহযোগিতা জোরদার হলে সন্ত্রাসে অর্থায়ন, অস্ত্র কারখানা পুনর্নির্মাণ ও সামরিক বাহিনী পুনর্গঠনের ইরানের সক্ষমতা আরও সীমিত হবে।
সেন্ট্রাল কমান্ডের হিসাবে, নৌ অবরোধ ইরানকে ২৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি অপরিশোধিত তেল রফতানি করতে দেয়নি। তবু ইরান স্থিতিস্থাপক প্রমাণিত হয়েছে। ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টিকে শাস্তি দিয়ে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ বিরোধী ডেমোক্র্যাটদের হাতে তুলে দেওয়া মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলে তেহরান উল্লাস প্রকাশ করেছে। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স নির্বাচনী বিপর্যয়ের জন্য ইরান যুদ্ধকে দায়ী করেছেন এবং সংঘাতটি আদৌ সার্থক ছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বলে মনে হয়েছে।
মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর যুদ্ধ আবার জ্বলে ওঠার আশঙ্কার মধ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ শেষ করতে সাম্প্রতিক দিনগুলোয় মধ্যস্থতাকারীরা তৎপরতা বাড়িয়েছেন। ইরানের বিরুদ্ধে নতুন আক্রমণের হুমকি দিয়ে আসছেন ট্রাম্প। এতে উপসাগরীয় দেশগুলো উদ্বিগ্ন, কারণ তেহরান উপসাগরীয় অবকাঠামোর বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রতিশোধের হুমকি দিয়েছে।