তিক্ততা ভুলে বৈঠকে বসছেন পুতিন-এরদোয়ান

তুর্কি-সিরিয়া সীমান্তে রুশ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার ঘটনায় তুরস্ক-রাশিয়ার কূটনৈতিক সম্পর্কে ফাটল ধরে। বাকযুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যের এরদোয়ান ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এবার সে তিক্ততা ভুলে মৈত্রী পুনরুদ্ধারে বৈঠকে বসছেন পুতিন ও এরদোয়ান।

বৃহস্পতিবার ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ৯ আগস্ট বৈঠক করবেন দুই দেশের রাষ্ট্র প্রধান। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকোভ বলেন, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যেই এই বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন পুতিন ও এরদোয়ান।

দিমিত্রি আরও বলেন, ‘কীভাবে, কোন পথ ও পদ্ধতি অনুসরণ করে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুনরুদ্ধার করা হবে সে বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হবে এই বৈঠকে।’

এর আগে তুরস্ক ও রাশিয়া সিরিয়া প্রশ্নে পরস্পরবিরোধী অবস্থানে ছিলো। আঙ্কারা প্রায়শই মস্কোর প্রতি আসাদ সরকারকে সমর্থন দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে।  যুদ্ধ বিমান ভূপাতিত করার ঘটনায় দুদেশের সম্পর্কে সৃষ্ট ফাটল জোড়া লাগা শুরু হয় আনুষ্ঠানিকভাবে এরদোয়ান যখন অনুতাপ প্রকাশ করে নিহত বিমানচালকের পরিবারের কাছে ক্ষমা চান।

তবে সম্প্রতি তুরস্কে ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থান চেষ্টার পর এরদোয়ান রাশিয়ার দিকে আরও ঝুঁকে পড়ছেন বলে মনে করছেন অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, এরদোয়ান মনে করেন ব্যর্থ অভ্যুত্থান চেষ্টার পেছনে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ নিয়ন্ত্রিত যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিত ইসলামি চিন্তাবিদ ফেতুল্লাহ গুলেন জড়িত। ফলে এরদোয়ান বুঝতে পেরেছেন সিআইএ ও ন্যাটো তার ওপর আস্থা রাখতে পারছেন না। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র কুর্দি বিদ্রোহীদের একটি অংশকে অস্ত্র দিয়ে সহযোগিতা করছে যুক্তরাষ্ট্র। এটাকে ভালো চোখে দেখছেন এরদোয়ান। ফলে তিনি রাশিয়ার সঙ্গে তিক্ততার অবসান ঘটিয়ে মৈত্রী পুনরুদ্ধার করতে চান।  সূত্র: ডেইলি সাবাহ।

/ইউআর/এএ/