ডনবাস কেন পুতিনের কাছে গুরুত্বপূর্ণ?

রুশ কর্মকর্তারা বলেছেন, ইউক্রেনে তাদের সামরিক অভিযানের মূল লক্ষ্য হলো ডনবাস অঞ্চলকে ‘সম্পূর্ণ মুক্ত করা’। ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় ডনেস্ক ও লুহানস্ক অঞ্চল ডনবাস হিসেবে পরিচিত। এখানে রুশ আক্রমণের আগে থেকেই মস্কোপন্থী বিচ্ছিন্নতাবাদীদের নিয়ন্ত্রণে অনেক ভূখণ্ড ছিল।

পশ্চিমা কর্মকর্তারা বলছেন, তারা আশঙ্কা করছেন ডনবাস অঞ্চলে রাশিয়া সেনার সংখ্যা দ্বিগুণ বা তিনগুণ করতে পারে। বিভিন্ন খবর ও স্যাটেলাইট ছবিতে ইউক্রেন সীমান্তের কাছে রাশিয়ার বেলগোরোদ, ভরোনেজ ও রোস্তোভ অঞ্চলে রুশ সেনা সমাবেশ চলছে জানা গেছে।

ইন্সটিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ার জানায়, ডনবাসের দক্ষণি দিক থেকে রুশ সেনাদের এগিয়ে আসার জন্য খারকিভ অঞ্চলেও সেনা সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে। মস্কোর প্রত্যাশা, ইজিইউম থেকে স্লোভিয়ানস্ক থেকে এগিয়ে ইউক্রেনের সেনাদের ঘিরে ফেলা।  

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন যখন ডনবাস অঞ্চলের কথা বলেন তখন তিনি ইউক্রেনের পুরনো কয়লা ও স্টিল উৎপাদনকারী এলাকার কথা ইঙ্গিত করেন।

পূর্বাঞ্চলীয় বড় এলাকা লুহানস্ক ও ডনেস্ক দক্ষিণে মারিউপোলের বহির্ভাগ থেকে উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত।

ন্যাটো আশঙ্কা করছে, রুশ সেনারা একটি ভূমি সংযোগ তৈরি করতে চায়। যা ডনেস্ক থেকে ক্রিমিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত হবে।

পুতিন বারবার এই অঞ্চলে ইউক্রেন কর্তৃক গণহত্যা চালানোর অভিযোগ করে আসছেন। যদিও এমন দাবির পক্ষে কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

যুদ্ধ শুরুর সময় অঞ্চলটির দুই-তৃতীয়াংশের ভূখণ্ড ইউক্রেনের নিয়ন্ত্রণে ছিল। অবশিষ্ট ভূখণ্ড বিচ্ছিন্নতাবাদীদের দখলে ছিল। আট বছর আগের যুদ্ধের সময় রুশপন্থী বিচ্ছিন্নতাবাদীরা এসব ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণ নেয়।  

এবারের যুদ্ধের আগমুহূর্তে পুতিন পূর্বাঞ্চলীয় ডনেস্ক ও লুহানস্ককে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেন। রাশিয়া যদি এলাকা দুটি দখল করতে পারে তাহলে যুদ্ধে পুতিনের জন্য হবে তা এক ধরনের অর্জন।

আর যদি ৯ মে এর আগে দখল করতে পারে রাশিয়া, তাহলে তিনি বিজয় দিবস উদযাপন করতে পারবেন। ১৯৪৫ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাৎসি জার্মানিকে পরাজিত করার ঐতিহাসিক মুহূর্তটি এখনও উদযাপন করে রাশিয়া।

সূত্র: বিবিসি।