পাকিস্তানের পশতু জনগোষ্ঠীর দুই সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ আনা হয়েছে। শুক্রবার (৩০ নভেম্বর) এই দুই সংসদ সদস্য বিমানবন্দরে গিয়ে জানতে পারেন, তাদের বিরুদ্ধে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে। সেখানে তাদের আটক করা হয়। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে দেশটির শক্তিশালী সেনাবাহিনীর ব্যবহারের বিরুদ্ধে সমালোচনামুখর ছিলেন ওই দুই সংসদ সদস্য।
আটক সংসদ সদস্যরা হলেন আলি ওয়াজির এবং মহসিন দার। তারা দক্ষিণ ওজিরিস্তানের রাজনীতিবিদ। এলাকাটি আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী। সংসদ সদস্য ওয়াজির পশতুদের অধিকার রক্ষায় কাজ করা সংগঠন ‘পশতু তাহাফুজ মুভমেন্টের’ (পিটিএম) প্রতিষ্ঠাতা। অন্যদিকে দার একই দলের নেতা। গত জুলাই মাসে পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তারা দুইজনই স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয় ছিনিয়ে আনেন।
ওয়াজির ও দার পেশোয়ার বিমানবন্দরে গিয়েছিলেন আরব আমিয়ারতের উদ্দেশে যাত্রা করার জন্য। সেখানে তারা ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা তালিকায় নিজেদের নাম থাকার কথা জানতে পারেন। ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার তালিকা তৈরি করে পাকিস্তানের ফেডারেল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (ফিয়া)। তারা ওই দুই সংসদ সদস্যের নিষেধাজ্ঞা তালিকায় থাকা নিয়ে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেনি। তবে সংস্থার একটি সূত্র রয়টার্সকে এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছে।
কিন্তু কেন এই দুই সংসদ সদস্যকে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রাখা হয়েছে তা জানাতে ফিয়ার সূত্রটি উল্লেখ করেছে, দার ও ওয়াজিরির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ আনা হয়েছে। রয়টার্স লিখেছে, পাকিস্তানে এমন অভিযোগ তখন আনা হয় যখন কেউ দেশটির সেনাবাহিনীর সমালোচনা করে।
পিটিএম নামক সংগঠনটি অভিযোগ করে আসছে, আফগান সীমান্তে সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধে পাকিস্তানের সহায়তায় যেসব অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে সেসব অভিযানে বারবার পশতুদের লক্ষ্যবস্তু বানানো হয়েছে। এমন অভিযোগের বিষয়ে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে আলোচনার চেষ্টা চালানো হয়েছিল। কিন্তু তাদর দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত পশতুরা কোনও কোনও সমঝোতা করেনি। এখন তাদের নেতাদের বিরুদ্ধে দেওয়া হয়েছে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা।