যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশিদের জোরপূর্বক বিয়ে বেড়েছে

ব্রিটিশ নাগরিকদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক বিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশিদের সংখ্যা বেড়েছে। যুক্তরাজ্য সরকারের সর্বশেষ প্রকাশিত পরিসংখ্যানে এ তথ্য উঠে এসেছে। ব্রিটিশ সরকারের স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দ্য ফোর্সড ম্যারেজ ইউনিট (এফএমইউ) জানিয়েছে, ২০১৮ সালে ১৫৭ জন বাংলাদেশিকে যুক্তরাজ্যে তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে তালিকায় শীর্ষে রয়েছে পাকিস্তান।

Venue-Central-London-Luton-female

গত সপ্তাহে প্রকাশিত এফএমইউ’র তথ্য অনুসারে, তালিকার শীর্ষে থাকা পাকিস্তানে এ ধরনের বিয়ের ঘটনা ঘটেছে ৭৬৯টি। আর ভারতে ১১০টি।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রে জোরপূর্বক বিয়ের প্রবণতা বেড়েছে। ২০১৫ সালে এমন প্রবণতা ৭ দশমিক ১ শতাংশ থাকলেও ২০১৬ সালে তা দাঁড়ায় ৮ শতাংশে। ২০১৭ সালে তা ছিল ১২৯ আর ২০১৮ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫৭-তে।


এফএমইউ জানায়, কোনও একটি দেশ বা সংস্কৃতিতে সমস্যা নয় জোরপূর্বক বিয়ে। ২০১১ সাল থেকে এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা, ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার ১১০টি দেশের এমন ঘটনার প্রবণতা পেয়েছে সংস্থাটি।

সংস্থাটির পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ঘটনা লন্ডন এলাকায় ঘটেছে। এরমধ্যে নিউহ্যামের বরো ও টাওয়ার হ্যামলেটসে সবচেয়ে বেশি ঘটেছে। এ প্রবণতার শিকার হওয়াদের বয়স ১৮ থেকে ২১ বছর এবং ২২ থেকে ২৫ বছর।
২০১৮ সালে এফএমইউ সম্ভাব্য জোরপূর্বক বিয়ের ১ হাজার ৭৬৪ ঘটনার ক্ষেত্রে পরামর্শ দিয়েছে। এরমধ্যে ইমেইল ও হেল্পলাইনে অনুসন্ধানও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই (৭৫%) নারীরা সহযোগিতা চেয়েছেন। তবে পুরুষদের সংখ্যাও ছিল।
ব্রিটিশ আইন অনুসারে, যে বিয়েতে ছেলেমেয়ে উভয়ের সম্মতি থাকে না এবং তাদের ওপর চাপ প্রয়োগ করা হয়, সেটাই জোরপূর্বক বিয়ে। যুক্তরাজ্যে বসবাসরত দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোতেই পাত্র-পাত্রীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে এ ধরনের বিয়ের প্রবণতা বেশি দেখা যায়।
ইংল্যান্ড, ওয়েলস এবং স্কটল্যান্ডের আইনে এ ধরনের বিয়ে অবৈধ। জোরপূর্বক শাস্তির জন্য যুক্তরাজ্যে সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। নিপীড়নের শিকার হওয়ার ব্যক্তির সহযোগিতায় ফোর্স ম্যারেজ প্রটেকশন অর্ডার ক্ষমতা কাজে লাগানোর এখতিয়ার রয়েছে ব্রিটিশ পুলিশের। এই কাজে বাধা দিলে কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।
ব্রিটিশ নাগরিকদের জোরপূর্বক বিয়ে ঠেকাতে কাজ করে সরকারের ফোর্সড ম্যারেজ ইউনিট। ২০০৫ সালের জানুয়ারিতে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দফতর, কমনওয়েলথ অফিস, স্বরাষ্ট্র দফতরের সমন্বয়ে এটি চালু করা হয়। এ সংস্থা যুক্তরাজ্যের ভেতরে এবং দেশের বাইরেও কাজ করে থাকে। ব্রিটিশ নাগরিক এবং দ্বৈত নাগরিকদের এ বিষয়ে পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করে থাকে সংস্থাটি।
লোকজনকে পরামর্শ প্রদান এবং শিকারে পরিণত হওয়ার আশঙ্কায় থাকা ব্যক্তিদের সহায়তায় এফএমইউ’র স্বতন্ত্র পাবলিক হেল্পলাইন রয়েছে। সংস্থাটি ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা সুরক্ষার মতো নানা পরামর্শ দিয়ে থাকে। পরিস্থিতি বেগতিক মনে হলে তাদের উদ্ধারেও কাজ করে এফএমইউ।