একসঙ্গে সরকারের ৫ পদে চাকরি, কাঠগড়ায় ব্রিটিশ-বাংলাদেশি কাশিম

লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের সাবেক এক ব্রিটিশ-বাংলাদেশি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘরে বসে বা রিমোট ওয়ার্কিং করে প্রতারণামূলকভাবে একই সময়ে পাঁচটি সরকারি দফতরে চাকরি করে ২ লাখ ৮৪ হাজার পাউন্ডেরও বেশি হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। লন্ডনের সাউথওয়ার্ক ক্রাউন কোর্টে এ সংক্রান্ত মামলার বিচারকাজ শুরু হলে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।

পূর্ব লন্ডনের হোয়াইটচ্যাপেলের বাসিন্দা ৫৫ বছর বয়সী কাশিম চৌধুরী ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট আটটি সরকারি পদে দায়িত্ব পালন করেন। তদন্তে বিষয়টি ধরা পড়ার আগে তিনি করদাতাদের অর্থ থেকে মোট ৩ লাখ ৪৯ হাজার ৩৭৮ পাউন্ড তুলে নেন বলে আদালতে জানানো হয়।

অভিযোগের বিবরণ অনুযায়ী, জালিয়াতির চূড়ান্ত পর্যায়ে এই ব্রিটিশ-বাংলাদেশি প্রশাসনিক কর্মকর্তা সপ্তাহে মোট ১৮৩ ঘণ্টা কাজ করার চুক্তি করেছিলেন- যা সাত দিনের একটি পূর্ণ সপ্তাহের মোট সময়ের চেয়েও ১৫ ঘণ্টা বেশি। অথচ সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোকে সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখেই তিনি এসব পদ ধরে রাখেন।

প্রসিকিউটর লুসি অর্গান জানান, টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের সাবেক এই কর্মী হোম অফিস, পরিবেশ, খাদ্য ও গ্রামীণ বিষয়ক বিভাগ (ডেফরা), ফুড স্ট্যান্ডার্ডস এজেন্সি এবং বাণিজ্য ও ব্যবসা বিভাগসহ প্রধান কেন্দ্রীয় দফতরগুলো থেকে অনিয়ম করে ২ লাখ ৮৪ হাজার ৬১৩ পাউন্ড আয় করেছেন। দায়িত্ব পালনে চরম গাফিলতি এবং নিজে থেকে কাজ পরিচালনায় স্পষ্ট অক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও অভ্যন্তরীণ নিয়োগ নীতির সুযোগ নিয়ে তিনি স্থায়ী সিভিল সার্ভিস কর্মকর্তার পদ বাগিয়ে নেন। তবে কাশিম তার বিরুদ্ধে আনা ৯টি প্রতারণার সব অভিযোগই অস্বীকার করেছেন।