গত ১৭ অক্টোবর ফ্রান্সের রাজধানীতে ব্যাপক সহিংসতা ও রাজপথের বিশৃঙ্খলার সময় বুলভার মাশেন্টা এলাকায় রবিউল হাসান নামের এক প্রবাসীর পরিচালিত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও সুপরিকল্পিতভাবে লুটপাটের শিকার হয়। ধ্বংসযজ্ঞের পর নেমে আসা চরম মানসিক আঘাত ও আর্থিক অনিশ্চয়তার মধ্যে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্য থেকে সাধারণ মানুষের এক অভূতপূর্ব সহমর্মিতা ও সংহতি দেখা দিয়েছে। ফ্রান্সজুড়ে সাধারণ নাগরিকরা দ্রুত একত্রিত হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত প্রবাসী উদ্যোক্তার পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং তাকে প্রয়োজনীয় আর্থিক ও নৈতিক সহায়তা প্রদান করেছেন। এটি আবারও প্রমাণ করেছে, সংকটের সময়েও মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসা সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সীমানা পেরিয়ে যেতে পারে।
বিপদগ্রস্ত মানুষের প্রতি এই সহায়তা ছিল অত্যন্ত দ্রুত, সুসংগঠিত ও হৃদয়স্পর্শী। সাধারণ মানুষ ডিজিটাল সংহতিকে বাস্তব সহযোগিতায় রূপ দিয়েছেন। ‘লেইচি’ নামক অনলাইন ক্রাউডফান্ডিং প্ল্যাটফর্মে ‘আইদ আ হাসান লিকা মোবাইল বুলভার মাশেন্টা’ শিরোনামে খোলা তহবিলটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত গতি লাভ করে। অত্যন্ত স্বল্প সময়ের মধ্যে সোমবার লন্ডন সময় রাত আটটায় প্রায় ১০ হাজার দাতার কাছ থেকে অনুদান জমা পড়ে, যা ৯০ হাজার ৪০৩ ইউরো ছাড়িয়ে যায়।
গত ১৭ অক্টোবরের সহিংসতায় ‘রাফিদ ইনফরম্যাটিক্স’ নামের দোকানটি মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়ার পর রবিউল হাসানের মতো ব্যবসায়ীর কাছে এই বিশাল উদারতা কেবল আর্থিক ক্ষতিপূরণের চেয়েও অনেক বেশি কিছু। এই ধরনের নাগরিক সহমর্মিতা বহুজাতিক শহুরে জনপদে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও টিকে থাকার লড়াইয়ের একটি শক্তিশালী স্মারক হিসেবে কাজ করে। ক্ষতিগ্রস্ত নিরাপত্তা শাটার মেরামত ও নতুন পণ্য তোলার জন্য যখন তহবিল বন্টন তদারকি করছেন স্থানীয় নেতারা ও আয়োজকরা, তখন প্যারিসের এই চিত্র ধ্বংসস্তূপের গল্প ছাপিয়ে এক গভীর সৌহার্দ্যের চিত্র , যা সারা বিশ্বের মানুষকে অনুপ্রাণিত করছে।