সোমবার চীনে জি২০ সম্মেলনে ওবামা বলেন, কায়পারনিক কিছু বাস্তব ও বৈধ বিষয় চিন্তা করেন। অনেক সময় (প্রতিবাদ) নোংরা ও বিতর্কিত হয় এবং তাতে মানুষ ক্ষুব্ধ ও হতাশ হয়। আমি মনে করি তরুণরা বিতর্কে জড়াচ্ছে এবং চেষ্টা করছে কীভাবে তারা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। যারা দর্শক হিসেবে আছে এবং কিছুই খেয়াল করছে না তাদের চেয়ে এসব তরুণদের আমি চাই।
ওবামা বলেন, আমি অন্তত এটুকু মনে করি যে, তিনি একটি অবস্থান নেওয়ার সাংবিধানিক অধিকার চর্চা করছেন। আমার মনে হয় এধরনের কাজে খেলোয়াড়দের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে।
গত মাসে গ্রিন বে প্যাকার্স-এর সঙ্গে নিজেদের মাঠে ওই খেলার আয়োজন করে স্যান ফ্রান্সিসকো ৪৯এয়ারস। কলিন বর্ণ-বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে খেলার আগে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সঙ্গীত বেজে উঠতেই মাঠে বসে পড়েন।
কলিন জানিয়েছেন, দেশে বর্ণবাদী অবস্থার উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত তিনি তার এই প্রতিবাদ অব্যাহত রাখবেন।
কলিনের দল স্যান ফ্রান্সিসকো ৪৯এয়ারস তার পাশে দাঁড়িয়ে বলেছে, ‘আমরা ব্যক্তিগত প্রতিবাদের অধিকারকে সমর্থন করি। জাতীয় সঙ্গীতকে উদযাপন করা না করাটাও ব্যক্তিগত বিষয়। কলিনেরও প্রতিবাদ জানানোর অধিকার রয়েছে।’
এনএফএল-এর এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, তারা জাতীয় সঙ্গীতের সময় খেলোয়াড়দের উঠে দাঁড়াতে উৎসাহিত করেন। কিন্তু তা বাধ্যতামূলক নয়।
কলিন তার প্রতিবাদের সমর্থনে বলেছেন, ‘আমি এমন একটি দেশের পতাকাকে সম্মান জানিয়ে উঠে দাঁড়াতে চাই না, যেখানে কৃষ্ণাঙ্গ এবং অন্যান্য মানুষকে রঙের ভিত্তিতে শোষণ করা হয়।’
এনএফএল মিডিয়াকে কলিন বলেন, ‘আমার কাছে এই প্রতিবাদ ফুটবলের চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আর এ থেকে ভিন্ন কিছু চিন্তা করাটা আমার কাছে স্বার্থপরতা বলে মনে হয়।’
তবে কলিনের সমর্থনেও অনেকে কথা বলছেন। সাবেক বাস্কেটবল তারকা করীম আবদুল-জব্বার মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন টাইমস-এ লিখেছেন, ‘কলিন জাতীয় সঙ্গীতের সময় উঠে দাঁড়ায়নি, এটা আমেরিকানদের জন্য ভয়ের কারণ নয়। বরং প্রায় ৫০ বছর আগে মুহাম্মদ আলীকে বক্সিং থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিলেন, টমি স্মিথ এবং জন কার্লোসকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছিল, আমরা এখনও সেই বর্ণবাদী অবিচারের মধ্যেই রয়ে গেছি।’
বিতর্ক ও সমালোচনা হচ্ছে কলিনের। এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় আসন্ন মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান দলের প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প কলিনের সমালোচনা করে তাকে অন্য কোনও দেশ খুঁজে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এই ঘটনাকে ‘ভয়াবহ’ বলে অভিহিত করে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি এটা ভয়াবহ ঘটনা। আর তার (কলিনের) উচিত এমন একটি দেশ খুঁজে নেওয়া, যা তার জন্য তিনি ঠিক মনে করেন। তিনি তা চেষ্টা করুক, তা কখনও তিনি পাবেন না।’ সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।
/এএ/