ওবামার সতর্কতার পরও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা পদে ফ্লিনকে নিয়োগ দেন ট্রাম্প। যদিও কিছুদিন পরেই রুশ সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ফ্লিনকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয় ট্রাম্প প্রশাসন।
হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা এনবিসি নিউজের এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্পকে ওবামার সতর্ক করার বিষয়টি প্রথম জানিয়েছেন। ওই কর্মকর্তা জানান, ৮ নভেম্বর নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর ট্রাম্প হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে গিয়েছিলেন। তখনই ওবামা ফ্লিনের বিষয়ে ট্রাম্পকে সতর্ক করেছিলেন।
তবে ঠিক কী কারণে ফ্লিনের বিষয়ে ট্রাম্পকে সতর্ক করেছিলেন ওবামা তা জানা যায়নি। সোমবার এ বিষয়ে জানতে চাইলে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে কোনও মন্তব্য করা হয়নি।
২০১৬ সালের মার্কিন নির্বাচনে রুশ হস্তক্ষেপ ও ট্রাম্পের রুশ সংযোগ তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ফ্লিন।
সাবেক এক মার্কিন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল স্যালি ইয়েটস সোমবার বিকালে সিনেটের জুডিশিয়ারি কমিটির শুনানিতে ট্রাম্পকে ওবামার হুঁশিয়ারির কথা জানাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর আগে দায়িত্ব নেওয়ার আগে ফ্লিন ওয়াশিংটনে রুশ রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়টি স্বীকার করেননি।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে রুশ রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে কথোপকথনের জের ধরে হোয়াইট হাউসের দায়িত্ব অবহেলার অজুহাত দেখিয়ে ফ্লিনকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়। এরপর থেকেই রাশিয়ার সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতা নিয়ে তদন্তে নামে এফবিআই ও সিনেট ইন্টেলিজেন্স কমিটি।
ফ্লিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ, ওবামা আমলে রাশিয়ার ওপর আরোপ করা নিষেধাজ্ঞা সরানোর বিষয়ে রুশ রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে তিনি ট্রাম্পের দায়িত্বগ্রহণের আগেই আলোচনা করেছিলেন। ফ্লিন তা করে থাকলে তবে তা হবে আইনের লঙ্ঘন। কেননা আইন অনুযায়ী, বেসরকারি নাগরিকদের পররাষ্ট্র নীতিমালাসংক্রান্ত কাজে জড়িত হওয়া নিষিদ্ধ।
পদত্যাগপত্রে ফ্লিন বলেছিলেন, তিনি অসাবধানতাবশত তৎকালীন নির্বাচিত ভাইস-প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সকে আংশিকভাবে রুশ রাষ্ট্রদূত সের্গেই কিসলিয়াকের সঙ্গে তার কথোপকথন সম্পর্কে জানিয়েছিলেন। সূত্র: রয়টার্স।
/এএ/