যুক্তরাষ্ট্রের ডেট্রয়েটের কাছে হ্যামট্র্যাক শহরের স্থানীয় এক রাজনীতিবিদ বাংলাদেশি ও ইয়েমেনি অভিবাসীদের কাছে বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন। স্থানীয় কাউন্সিলম্যান ইয়ান পেরোট্টা শহরের কিছু এলাকায় আবর্জনা জমা হওয়ার জন্য এই দুই দেশের অভিবাসীদের দায়ী করেছিলেন।
হ্যামট্র্যাক যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ কাউন্সিল। ছয় কাউন্সিল সদস্যদের মধ্যে তিন জন বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত এবং একজন ইয়েমেন থেকে আসা।
সম্প্রতি এক রেডিও সাক্ষাৎকারে কাউন্সিলম্যান ইয়ান বলেছিলেন, শহরের কিছু এলাকায় আবর্জনা জমা হচ্ছে কারণ সেখানকার বাসিন্দা রাস্তায় তা ছুড়ে ফেলছেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের অনেক অভিবাসী এমন এলাকা থেকে এসেছেন যেখানে আবর্জনা সংগ্রহ ও পয়নিষ্কাশনের পর্যাপ্ত সুবিধা নেই অথবা অগ্রাধিকার দেওয়া হয় না।’
কাউন্সিলম্যান আরও বলেছিলেন, ‘আগের দফায় যেসব অভিবাসী এসেছিলেন তারা অনেক বেশি ইউরোপীয় ছিলেন। হয়ত তারা যেখান থেকে এসেছেন সেখানে আমাদের মতোই পয়নিষ্কাশন ব্যবস্থা ছিল। কিন্তু এখন যেসব অভিবাসী আসছেন তারা মূলত বাংলাদেশ ও ইয়েমেন থেকে আসা।’
হ্যামট্র্যাক শহরের প্রায় ৪৫ শতাংশ বাসিন্দা অভিবাসী। এসব অভিবাসীদের বেশিরভাগ বাংলাদেশ ও ইয়েমেন থেকে আসা।
কাউন্সিলম্যানের এই মন্তব্য অনেক স্থানীয় বাসিন্দা ও কাউন্সিল সদস্যকে ক্ষুব্ধ করেছে। এক কাউন্সিল সদস্য এনাম মিয়া ঘোষণা দেন, পেরোট্টার বিরুদ্ধে কাউন্সিলে নিন্দা প্রস্তাব উত্থাপনের পরিকল্পনা করছেন। যদিও প্রস্তাবটি ভোটে দেওয়া হয়নি।
কাউন্সিলের এক বৈঠকে পেরোট্টা তার মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চান। তিনি জানান, শহরের সমস্যা নিয়ে জমা অভিযোগের একটি প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে ওই মন্তব্য করেছিলেন।
পেরোট্টা বলেন, ‘আমি ক্ষমা চাই। সত্যিকার অর্থেই আমি দুঃখিত। আমি কখনও খারাপ উদ্দেশে এটি বলিনি। কোনও নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে অবজ্ঞা করতে চাইনি।’
কাউন্সিল সদস্য এনাম মিয়া বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, পেরোট্টার ক্ষমা চাওয়াতে তিনি সন্তুষ্ট। বলেন, ‘আসলে তিনি (পেরোট্টা) যখন এই মন্তব্য করেন তখন আমি অবাক হয়েছিলাম। আমি মনে করি না তিনি বর্ণ বিদ্বেষী বা একজন ধর্মান্ধ ব্যক্তি।’
এমন সময় এই বিতর্ক উঠলো যখন শহরে নির্বাচনি উত্তাপ বিরাজ করছে। শহরটির বর্তমান মেয়র কারেন মাজেভস্কির বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত কাউন্সিলম্যান মোহাম্মদ হাসান।
পেরোট্টার মন্তব্যের পর হাসান বলেছিলেন, এতে তিনি খুব মর্মাহত হয়েছেন। তবে নির্বাচন চালিয়ে যাবেন।
হাসান বলেন, ‘আমি মনে করি এখন লড়াই থামিয়ে দেওয়ার সময় এখন নয়।’ নির্বাচিত হলে হাসান হবেন হ্যামট্র্যাক শহরের প্রথম মুসলিম মেয়র।
মেয়র প্রার্থী হাসান আরও জানান, স্থানীয় কমিউনিটির উচিত পয়নিষ্কাশনের বিষয়ে আরও সচেতন হওয়া। কারণ আমরা যে স্থান থেকে এসেছি সেখানকার সঙ্গে এই শহরের পরিবেশের পার্থক্য রয়েছে। তিনি বলেন, ‘পেরোট্টার বক্তব্যের ভুল দিক হচ্ছে তিনি এই সমস্যার জন্য শুধু অভিবাসীদের দায়ী করেছেন। এটি অন্যায়।’