ফেসবুক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচনের সময় ৮০ হাজার রাজনৈতিক পোস্ট দিয়েছে রাশিয়া এবং তা দেখেছেন অন্তত ১২ কোটি ৬০ লাখ (১২৬ মিলিয়ন) মার্কিনি। যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের এক শুনানিকে সামনে রেখে এমন তথ্য প্রকাশ করেছে ফেসবুক।
মঙ্গলবার মার্কিন সিনেটের জুডিসিয়ারি কমিটির সামনে ফেসবুক, টুইটার ও গুগলে করা পোস্টের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে রাশিয়ার প্রভাব নিয়ে এক শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।
ফেসবুক জানায়, রাশিয়ার করা বেশিরভাগ পোস্টের উদ্দেশ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রে জাতিগত ও শ্রেণি বিদ্বেষ ছড়ানো। বিশেষ করে মুসলিম অভিবাসী বা ভিন্ন ধর্মাবলম্বী বিষয়ক পোস্টের মাধ্যমে।
রাশিয়ার সরকারপন্থি সংস্থা ‘ইন্টারনেট রিসার্চ এজেন্সি' ২০১৫ সালের জুন থেকে ২০১৭ সালের আগস্ট পর্যন্ত এসব পোস্ট প্রকাশ করেছে বলে নিশ্চিত করেছেন ফেসবুকের আইনজীবি কলিন স্ট্রেচ।
প্রায় ৩ কোটি ফেসবুকার সরাসরি তাদের ফেসবুক পাতায় এসব খবর প্রকাশ করেছেন। তবে কলিনের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের বেশিরভাগ ভোটার হয়তো এগুলো পড়েননি। তিনি বলেন, ‘ফেসবুকের মাধ্যমে আমরা পারস্পরিক সম্প্রীতি তৈরির জন্য যে কাজ করি, এ ধরনের কর্মকাণ্ড তার বিপরীত। এগুলো প্রতিহত করতে যা যা করা প্রয়োজন, তার সবই আমরা করবো।’
মার্কিন নির্বাচনের আগে ফেসবুকে প্রচারিত হওয়া রাশিয়া সংশ্লিষ্ট কয়েক হাজার বিজ্ঞাপন তদন্তের জন্য কংগ্রেসের হাতে তুলে দেবে প্রতিষ্ঠানটি।
গুগল জানায়, সরকারপন্থি একটি গ্রুপ তাদের প্লাটফর্ম উদ্দেশ্যমূলকভাবে ব্যবহার করেছে বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে৷ এ গ্রুপেরই অন্তত ২ টি অ্যাকাউন্ট ২০১৬ সালের যুক্তরাষ্ট্র নির্বাচনের সময় চার হাজার সাতশ' ইউরোরও বেশি খরচ করেছে বিজ্ঞাপনে। রাশিয়ার করা ১ হাজারের বেশি ভিডিও ইউটিউবের ১৮ টি পৃথক চ্যানেলে প্রকাশ করা হয়েছে৷ এসব অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে জানিয়ে গুগল দাবি করেছে, ‘যদিও এসব বিষয় নিয়ে আমাদের করণীয় খুব বেশি নেই, তারপরও আমরা এসব বন্ধের চেষ্টা চালাবো, কারণ, কিছু প্রভাবিত করতে কোনও কর্মকাণ্ডই গ্রহণযোগ্য নয়।’
অন্যদিকে, টুইটার এ সংক্রান্ত ২ হাজার ৭০০টি অ্যাকাউন্ট শনাক্ত করে সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে। এসব অ্যাকাউন্টের বিস্তারিত তথ্য সিনেটে শুনানির সময় দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের শুরুর দিকে নির্বাচনে রাশিয়ার প্রভাবের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হলে গুগল, টুইটার, ফেসবুকের মতো জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম মার্কিন কংগ্রেসের চাপের মুখে পড়ে। সূত্র: ডয়চে ভেলে।