হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর ওরবান পুনর্নির্বাচিত হয়ে বলেছেন, তিনি ‘ইউনাইটেড স্টেটস অফ ইউরোপ’ দেখতে চান না। বরং সদস্য রাষ্ট্রগুলো যেন সার্বভৌমত্ব বজায় রেখে একতাবদ্ধ হতে পারে এমন ইউরোপীয় ইউনিয়ন তার প্রত্যাশা। তার ভাষ্য, পুনর্নির্বাচিত হয়ে তিনি জনগণের কাছ থেকে সেই ম্যান্ডেট পেয়েছেন, যাতে অভিবাসীদের অধিকার নিয়ন্ত্রণে যথাযথ আইন প্রণয়নের উদ্যোগ তিনি নিতে পারেন। রয়টার্স জানিয়েছে, হাঙ্গেরিতে অভিবাসন নিয়ে কাজ করা সংস্থাগুলোর পাওয়া অনুদানের ওপর কর আরোপের একটি আইন পাস হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। আইনটি ওরবান সরকারই নির্বাচনের আগে সংসদে প্রস্তাব করেছিল।
হাঙ্গেরির রক্ষণশীল জাতীয়তাবাদী নেতা ওরবান গত নির্বাচনে ভূমিধ্বস জয় পেয়েছেন। এ নিয়ে তিনি তৃতীয়বারের মতো নির্বাচনে জিতলেন। নির্বাচনি প্রচারণায় অভিবাসী ও শরণার্থীদের বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দিয়েছিলেন তিনি। রয়টার্স লিখেছে, অভিবাসনবিরোধী ওই প্রচারণার জেরেই তিনি একটি বড় অংশের ভোটারের সমর্থন আদায় করতে পেরেছেন। নির্বাচনে জয়ের পর তিনি জানিয়েছিলেন, ‘আমি একটি নতুন সরকার গঠন করব, যা বহুলাংশেই নতুন সদস্যদের দ্বারা গঠিত হবে।’ বিশাল ভোটে ওরবানের জয় নিশ্চিত হওয়ার পর হাঙ্গেরির বিরোধী দল জবিক পার্টির প্রধান গ্যাবোর ভোনা পদত্যাগ করেছেন। ‘আমরা জোরদার জনসমর্থন পেয়েছি’, উল্লেখ করে ৫৪ বছর বয়সী প্রধানমন্ত্রী ওরবান মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ‘হাঙ্গেরির জনগণ স্পষ্ট করে দিয়েছে, তাদের কাছে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে অভিবাসন ও সার্বভৌমত্ব। জনগণ জানিয়ে দিয়েছে, তারা কার সঙ্গে হাঙ্গেরিতে থাকবে তা নির্ধারনের অধিকার শুধু তাদেরই আছে। আর সরকার জনগণের সিদ্ধান্তের সাথেই থাকবে।’
সংবাদ সম্মেলনে ওরবান ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর সার্বভৌমত্ব নিয়েও কথা বলেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলো তাদের সার্বভৌমত্ব হারিয়ে ‘ইউনাইটেড স্টেটস অফ আমেরিকার’ মতো একটি ‘ইউনাইটেড স্টেটস অফ ইউরোপে’ পরিণত হোক তা তিনি চান না। তার প্রত্যাশা, ইইউতে থেকে দেশগুলো যেন যার যার সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে পারে। উল্লেখ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়নের অনেক সমালোচক ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর জন্য করা বিধানের সমালোচনা করে বলেন, সেগুলোর কারণে ইউভুক্ত দেশগুলো নিজেদের সার্বভৌমত্ব হারিয়ে ক্রমেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রদেশগুলোর মতো সার্বভৌমত্বহীন হয়ে পড়ছে।
সোমবার হাঙ্গেরির রাজনৈতিক দল ফিদাস আভাস দিয়েছিল, অভিবাসীদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে প্রস্তাবিত আইনটি দ্রুত পাস করানর বিষয়ে তারা তারা সরকারকে চাপ দেবে। হাঙ্গেরির ডানপন্থী সরকার নির্বাচনের আগেই ‘স্টপ সোরোস’ নামে পরিচিত বিলটি সংসদে প্রস্তাব করেছে। বিলটি পাস হয়ে গেলে, হাঙ্গেরিতে অভিবাসীদের সহায়তাকারী সংগঠনগুলোর জন্য বিদেশ থেকে যাওয়া অর্থের ওপর ২৫ শতাংশ কর আরোপ করা হবে। বিলটি হাঙ্গেরিয় বংশোদ্ভূত যুক্তরাষ্ট্রের কোটিপতি জর্জ সোরোসের নামে পরিচিতি পেয়েছে। জর্জ সোরোস ইউরোপে উদার গণতন্ত্র ও উন্মুক্ত সীমানা বাস্তবায়নের পক্ষে কাজ করছেন। এতে হাঙ্গেরির অভিবাসনবিরোধী প্রধানমন্ত্রী ওরবানের চক্ষুশূলে পরিণত হয়েছেন তিনি। ওরবান জানিয়েছেন, নতুন সরকার গঠনের পর তিনি পোল্যান্ড ও জার্মানির রক্ষণশীল প্রদেশ বাভারিয়ার সঙ্গে বিশেষ সম্পর্ক রেখে চলবেন। কারণ তারা নির্বাচনের আগে ওরবানের প্রতি জোরালো সমর্থন ব্যক্ত করেছিল।