প্রায় অর্ধেকের কাছাকাছি মার্কিন ভোটার মনে করেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একজন বর্ণবাদী ব্যক্তি। মঙ্গলবার কুইনিপিয়াক ইউনিভার্সিটির প্রকাশিত জরিপের ফল থেকে আরও জানা গেছে, ওই মতামত দেওয়া ভোটারদের সংখ্যা ৪৯ শতাংশ। অপরদিকে ৪৭ ভোটার শতাংশ মনে করেন, ট্রাম্প বর্ণবাদী নন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন লিখেছে, ট্রাম্প বরাবর মেক্সিকানদের বিরুদ্ধে বর্ণবাদী ও বিদ্বেষপ্রসূত মন্তব্য করে আসছেন। এছাড়া মার্কিন সংবাদমাধ্যম হাফপোস্ট লিখেছে, বর্ণবাদ বিরোধীদের সমাবেশে গাড়ি চালিয়ে দিয়ে ১ জনকে হত্যা ও অনেককে আহত করার ঘটনাকে ট্রাম্প ‘বহু পক্ষের বিবাদ’ আখ্যা দিয়েছিলেন।
৮৬ শতাংশ ডেমোক্র্যাট মনে করেন ট্রাম্প বর্ণবাদী, অন্যদিকে ৮৬ শতাংশ রিপাবলিকান মনে করে তিনি, বর্ণবাদী নন। দুই দলের কোনও দলের সমর্থক নন এমন ব্যক্তিদের ৫০ শতাংশই বলেছেন, তারা ট্রাম্পকে বর্ণবাদী মনে করেন। ট্রাম্পের অগ্রহণযোগ্য হওয়াটা শুধু বর্ণবাদের বিষয়েই থেমে নেই। যারা তাকে বর্ণবাদী বলে মনে করেন না তাদের অভিযোগ আছে অন্য বিষয়ে। যেমন ৪৯ শতাংশ তাকে বর্ণবাদী মনে করলেও কর্মসংস্থানের বিষয়ে তার ওপর অসন্তুষ্ট ৫৬ শতাংশ ভোটার।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম হাফপোস্ট লিখেছে, ৪৪ শতাংশ ভোটারের মতে ট্রাম্পের অভিবাসী সংক্রান্ত নীতির পেছনে রয়েছে তার বর্ণবাদী বিশ্বাস। অপর ৫০ শতাংশ ভোটার ‘সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ করার বিষয়ে ট্রাম্পের নিষ্ঠা রয়েছে’ এমন মতামত লালন করলেও ৬০ শতাংশ মনে করেন, অভিবাসীদের কাছ থেকে তাদের সন্তানদের পৃথক করে ফেলার সিদ্ধান্তটি মানবাধিকারের লঙ্ঘন।
হাফপোস্ট লিখেছে, ট্রাম্প ও তার সহযোগীরা ধারবাহিকভাবে অসত্য ও বর্ণবাদী ব্যাখ্যা হাজির করেছেন নিজেদের পক্ষে সমর্থন নিশ্চিতে। নিজেদের দাবির পক্ষে কোনও প্রমাণ হাজির করতে না পারলেও তারা বারবার বলে এসেছেন, অভিবাসীদের দ্বারা বেশি অপরাধ সংগঠিত হয়। ট্রাম্প নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে বিদ্বেষপ্রসূত অপরাধের সংখ্যা বেড়ে গেছে। ২০১৭ সালেও সে ধারা অব্যাহত থাকতে দেখা গেছে।
চার্লটসভিলে ২০১৭ সালে ডানপন্থী শ্বেতাঙ্গ বর্ণবাদীদের সঙ্গে যুক্ত এক ব্যক্তি বর্ণবাদের প্রতিবাদকারীদের ওপর গাড়ি চালিয়ে দিয়েছিল। তাতে নিহত হয়েছিলেন একজন; আহত অনেকে। অথচ ট্রাম্প ওই ঘটনাকে ‘বহু পক্ষের সংঘর্ষ’ আখ্যা দিয়েছিলেন।
এছাড়াও, পুলিশি নির্যাতন ও বর্ণবাদী আচরণের প্রতিবাদে খেলোয়াড়রা জাতীয় সঙ্গীতের সময় না দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। ট্রাম্প ওই ঘটনায় খেলোয়াড়দের ‘সান অফ আ বিচ’ বলতেও ছাড়েননি।