ইয়েমেনে সৌদি আরবের যুদ্ধাপরাধে সহায়তা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র: নিউ ইয়র্ক টাইমস

ইয়েমেন যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে একটি মন্তব্য প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমস। ওই প্রতিবেদনে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটকে দেওয়া মার্কিন সহায়তাকে নিরাপরাধ ইয়েমেনিদের হত্যার শামিল বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। ইয়েমেন যুদ্ধে সৌদি জোটকে সহায়তা বন্ধ করতে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা মিত্রদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে ওই প্রতিবেদনে।

2016_12_7-drone-yemen31359618361_d0da5f8309_o

তিন বছর আগে ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট মানসুর হাদিকে উচ্ছেদ করে রাজধানী সানা দখলে নেয় ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা। হাদি সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে নির্বাসনে যেতে বাধ্য হন। হাদির অনুগত সেনাবাহিনীর একাংশ হুথিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে। ২০১৫ সালের মার্চে হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে মিত্রদের নিয়ে ‘অপারেশন ডিসাইসিভ স্টর্ম’ নামে সামরিক অভিযান শুরু করে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত।  

ইয়েমেনে যুদ্ধ  ও অবরোধের কারণে ২ কোটিরও বেশি মানুষ মানবেতর জীবন যাপন করছে। তাদের কাছে পর্যাপ্ত মানবিক সহায়তা পৌঁছাচ্ছে না। বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে দেশটি। জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ইয়েমেনে সৌদি অভিযানকে যুদ্ধাপরাধের শামিল বলে আখ্যা দিয়েছে।

মঙ্গলবার (২৮ আগস্ট) নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক মন্তব্য প্রতিবেদনে জাতিসংঘ ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচকে উদ্ধৃত করে ইয়েমেন যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকার নিন্দা জানানো হয়। সৌদি জোটকে সহায়তা প্রদান যুদ্ধাপরাধে অংশ নেওয়ারই শামিল বলে উল্লেখ করা হয়। বলা হয়, ‘যুক্তরাষ্ট্র সৌদি জোটের কাছে শুধু অস্ত্রই বিক্রি করছে না, সামরিক সহায়তাও দিচ্ছে’।

সৌদি জোটের কাছে অস্ত্র বিক্রি বন্ধের আহ্বান জানিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও এর পশ্চিমা মিত্রদের জন্য সৌদি আরব ও জোটের অংশীদারদের কাছে অস্ত্র বিক্রি ও যেকোনও ধরনের সামরিক সহায়তা বন্ধের এখনই সময়।’ তবে মঙ্গলবারও সৌদি জোটকে ক্রমাগত সহায়তা দিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেমস ম্যাটিস। তিনি বলেন, সৌদি আরবকে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন যেহেতু নিঃশর্তভাবে দেওয়া হয়নি, সেক্ষেত্রে ইয়েমেন যুদ্ধে জোটকে সহায়তা প্রদান অব্যাহত থাকবে।

এদিকে, মঙ্গলবার (২৮ আগস্ট) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা জানান, সরকারি বাহিনী, সৌদি জোট ও হুথি বিদ্রোহীদের কেউই বেসামরিকদের দুর্দশা কমানোর চেষ্টা করেনি। যুদ্ধে স্কুল, হাসপাতাল ও বাজারে বোমা হামলা চালানো হয়েছে। এতে নিহত হয়েছে হাজার হাজার মানুষ।

জাতিসংঘ মনে করে, সৌদি জোটের আকাশ ও নৌপথ অবরোধ করে দেওয়াও যুদ্ধাপরাধের শামিল। আগামী মাসে জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদে এই প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা রয়েছে বিশেষজ্ঞদের। তবে প্রতিবেদনটি প্রত্যাখ্যান করেছে সৌদি জোট। তাদের দাবি, ২০১৭ সালের ডিসেম্বর থেকে খোলাখুলি ও স্বচ্ছভাবেই জাতিসংঘের সঙ্গে কাজ করছে সৌদি জোট। বিবৃতিতে তারা দাবি করে, বেসরকারি সংস্থার বিভ্রান্তিকর তথ্যের ওপর ভিত্তি করে জাতিসংঘ মিথ্যা অভিযোগ এনেছে।