ট্রাম্পবিরোধী নিবন্ধ লিখিনি: পেন্স ও পম্পেও

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যে নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমসে, তা লেখার কথা অস্বীকার করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও। তাদের দুইজনের পক্ষ থেকেই বরং ওই নিবন্ধের রচয়িতার সমালোচনা করা হয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, নাম গোপন রেখে নিউ ইয়র্ক টাইমসে লিখিত ওই নিবন্ধের রচয়িতা নিজেকে ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। নিউ ইয়র্ক টাইমসও তার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করেছে।s2.reutersmedia.net

বুধবার নিউ ইয়র্ক টাইমস পত্রিকায় নিবন্ধটি প্রকাশিত হয়। এর মূল বক্তব্য হচ্ছে, ট্রাম্প রিপাবলিকান প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হলেও রিপাবলিকানদের মূল্যবোধ মেনে কাজ করেন না। নীতিগত সিদ্ধান্তের বিষয়ে কোনও স্থিরতা নেই। প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি যখন তখন মত পাল্টান। কিম জং উন ও পুতিনের মতো একনায়কের প্রতি তার সমর্থন রয়েছে।  বন্ধু রাষ্ট্রগুলোকে তিনি উপেক্ষা করার চেষ্টা করেন। এরকম আরও বেশ কিছু অভিযোগের কথা উল্লেখ করে লেখা হয়েছে, নিবন্ধের রচয়িতা ও ট্রাম্প প্রশাসনের সমমনা কর্মকর্তারা আসলে ‘দ্বৈত শাসনের’ দ্বারস্থ হয়েছেন। একদিকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্প তার খেয়ালখুশি মতো সিদ্ধান্ত দিচ্ছেন। অন্যদিকে ট্রাম্পবিরোধী কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্তে বাস্তবায়ন ঠেকিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন।

এই নিবন্ধ প্রকাশিত হওয়ার পর ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় পড়ে গেছে। সংশ্লিষ্ট মার্কিন কর্মকর্তার পরিচয় নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা-কল্পনা। আর অন্যদিকে ট্রাম্প টুইটারে ব্যক্ত করেছেন ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া। ট্রাম্পের বর্তমান অবস্থান নিয়ে সিএনএন লিখেছে, এখন নিজের ঘরেই বিশ্বাসঘাতক খুঁজে ফিরছেন ট্রাম্প। নিবন্ধটি কে লিখেছে, সে প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে আলোচনায় নাম এসেছে মার্কিন পররাষ্ট্র মাইক পম্পেও ও ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সের। এমন সন্দেহের মুখে তারা এর জোরাল প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

ভারত সফরে থাকা মাইক পম্পেও বলেছেন, ‘এটা আমার লেখা নয়।’ নিউ ইয়র্ক টাইমস পত্রিকার সমালোচনা করে তিনি বলেন, তাদের উচিত হয়নি ধোঁকাবাজ ও খামখেয়ালি কোনও কর্মকর্তার লেখা ছাপানো।

অন্যদিকে ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মাইক পেন্স নাম গোপন করে নিবন্ধ লেখেন না। লিখেলে, স্বনামেই লেখেন। নিবন্ধের রচয়িতাকে মেরুদণ্ডহীন আখ্যা দিয়ে নিউ ইয়র্ক টাইমসের সমালোচনাও করা হয়েছে পেন্সের পক্ষ থেকে। পেন্সের মুখপাত্র জ্যারোড অ্যাজেন টুইটারে লিখেছেন, অসত্য ও অযৌক্তিক নিবন্ধ ছাপিয়ে নিউ ইয়র্ক টাইমস ঠিক করেনি।

ট্রাম্প নিজেও ওই নিবন্ধের রচয়িতাকে মেরুদণ্ডহীন আখ্যা দিয়েছেন গত বুধবার। তিনি নিউ ইয়র্ক টাইমসকে আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে ওই ব্যক্তিকে ধরিয়ে দেওয়া উচিত। নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, নিবন্ধের রচয়িতার পেশাগত নিরাপত্তার স্বার্থে তার তার পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে।