যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যে হারিকেন লরা আঘাত হেনেছে। ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টার (এনএইচসি) জানিয়েছে, হারিকেনের প্রভাবে সেখানে আকস্মিক বন্যা দেখা দিয়েছে। ঘণ্টায় ২৪০ কিলোমিটার বাতাসের বেগ নিয়ে উপকূল থেকে এগোতে থাকা চার মাত্রার হারিকেন লরার কারণে ভয়াবহ জলোচ্ছ্বাস দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এখবর জানিয়েছে।
আবহাওয়ার পূর্বাভাসে সতর্ক করে বলা হয়েছে, এই হারিকেনের প্রভাবে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসে লুইজিয়ানার দক্ষিণপশ্চিম উপকূল থেকে ৪০ মাইল ভেতর পর্যন্ত এলাকা তলিয়ে যেতে পারে।
বিবিসি’র খবরে বলা হয়েছে, বাতাসের এই বেগ অব্যাহত থাকলে হারিকেনটি যুক্তরাষ্ট্রের মেক্সিকো উপসাগরীয় উপকূলে আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী হারিকেনগুলোর মধ্যে একটি হয়ে উঠতে পারে।
হারিকেনের প্রভাবে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসে লুইজিয়ানার দক্ষিণপশ্চিম উপকূল থেকে ৪০ মাইল ভেতর পর্যন্ত এলাকা তলিয়ে যেতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এনএইচসি জানিয়েছে, স্থানীয় সময় রাত ১টার একটু আগে লুইজিয়ানার ছোট শহর ক্যামেরনের ওপর দিয়ে ঘূর্ণিঝড়টি স্থলভাগে উঠে আসে।
খবরে বলা হয়েছে, এরই মধ্যে লুইজিয়ানা ও টেক্সাসের কয়েকটি অংশ থেকে পাঁচ লাখ বাসিন্দাকে সরে যেতে বলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার লুইজিয়ানার এক লাখ ৯০ হাজারেরও বেশি বাড়ি বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়ে। টেক্সাসে বিদ্যুৎবিহীন বাড়ির সংখ্যা ৪৫ হাজার ছাড়িয়ে যায়।
এর আগে, লরা এবং অন্য একটি ঝড় মার্কোর আঘাতে ক্যারিবীয় অঞ্চলে অন্তত ২৪ জন মারা গেছে। মার্কো এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানায় আঘাত হেনেছে। যদিও মার্কো এরই মধ্যে দুর্বল হয়ে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড়ে রূপ নিয়েছে।
করোনাভাইরাস মহামারির কারণে উপকূলীয় এলাকা থেকে লোকজনকে সরিয়ে নেওয়ার কাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে সামর্থ্যবান পরিবারগুলোকে হোটেল এবং মোটেলে আশ্রয় নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।