রাইফেলের গুলিতে দুজনকে হত্যা: মার্কিন আদালতের রায়ে নির্দোষ রিটেনহাউস

যুক্তরাষ্ট্রে গতবছরের আগস্টে আলোচিত বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলন ‘ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার’-এ পুলিশি নির্যাতন ও বর্ণবাদবিরোধী বিক্ষোভ চলাকালে সেমি-অটোমেটিক রাইফেল চালিয়ে দুই প্রতিবাদকারীকে হত্যা ও একজনকে আহত করার ঘটনায় নির্দোষ প্রমাণ হয়েছে উইসকনসিনের টিনএজার কাইল রিটেনহাউস।

আদালতে আত্মপক্ষ সমর্থন করে ২০২০ সালেই ১৭ বছর বয়সী রিটেনহাউস বলেছিল, ২০২০ সালের ২৫ আগস্ট বিক্ষোভ চলাকালে কয়েকজনের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে সে। একপর্যায়ে তাকে আক্রমণ করতে এলে নিজের কাছে থাকা আগ্নেয়াস্ত্র বের করে রিটেনহাউস। আত্মরক্ষার্থেই গুলি চালাতে বাধ্য হয়। এ ঘটনার পর হত্যাসহ পাঁচটি অভিযোগ আনা হয় রিটেনহাউসের বিরুদ্ধে।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর অভিযোগ, রিটেনহাউসের কাছে থাকা অ্যাসল্ট রাইফেলটি ছিল অবৈধ। অস্ত্র বের না করলে হতাহতের ঘটনা ঘটতো না বলেও দাবি তার।

এদিকে উইসকনসিন হত্যাকাণ্ড নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছিল মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে। কেউ বলছেন, রিটেনহাউস দেশপ্রেমিক। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতেই গুলি চালান তিনি। কেউ বলছেন, রিটেনহাউস চাইলেই এই হত্যাকাণ্ড এড়াতে পারতেন।

অবশ্য মোড় ঘুরে যায়, ঘটনায় জড়িত গ্রসক্রুৎজ (২৭) নামের একজনের জবানবন্দিতে। রিটেনহাউসের চালানো গুলিতে আহন হয়েছিলেন তিনি। তিনি আদালতে বলেন, রিটেনহাউস গুলি চালানোর আগেই তিনি তার দিকে বন্দুক তাক করেছিলেন। তাতেই পাল্লা হেলে পড়ে রিটেনহাউসের দিকে।

অনেকে বলছেন, এ রায়ে আমেরিকানদের অস্ত্র রাখার সাংবিধানিক অধিকার আরেকদফা প্রশ্নবিদ্ধ হলো। এমনকি যেকোনও রায়ট বা বিশৃঙ্খলা চলাকালীন জনসম্পদ বা নিজেকে রক্ষার স্বার্থে ১৭ বছর বয়সী রিটেনহাউসের হাতে প্রাণঘাতি অ্যাসল্ট রাইফেল রাখাটাও সেখানকার আইনের চোখে এখন স্বাভাবিক ঘটনা।

রিটেনহাউসের গুলিতে নিহত দুজন ছিলেন ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার-এর সমর্থনে আন্দোলনকারী। রিটেনহাউসের বিচার চলাকালে ওই দুজনকে (জোসেফ রোজেনবম ও অ্যানথনি হুবার) ‘ভিকটিম’ না বলার ব্যাপারেও বারবার পরামর্শ দিয়েছিলেন বিচারক ব্রুস শ্রোয়েডার। যে কারণে বাদিপক্ষের আইনজীবীরা এ ঘটনায় বিচারকের দ্বিমুখী নীতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন।

এমনকি রায় ঘোষণার পর উইসকনসিনের লেফটেন্যান্ট গভর্নর ম্যান্ডেলা বার্নস তার ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন বিবিসির কাছে।  

 

সূত্র: বিবিসি, গার্ডিয়ান, রয়টার্স