ইউক্রেন ঘিরে রাশিয়ার সেনা সংখ্যা ১ লাখ ৯০ হাজার: যুক্তরাষ্ট্র

ইউক্রেন সীমান্তের কাছাকাছি ও বিচ্ছিন্নতাবাদীদের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় রাশিয়ার মোতায়েন করা সেনাদের সংখ্যা ১ লাখ ৯০ হাজার হতে পারে। শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র একথা জানিয়েছে। এতে করে সীমান্তে রাশিয়ার সেনা সমাবেশ আগের চেয়ে দ্রুত বাড়ছে বলে আশঙ্কা ছড়াচ্ছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিকভাবে চেষ্টা করছে উত্তেজনা নিরসনের। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমস এখবর জানিয়েছে।

ইউক্রেন ঘিরে রাশিয়ার সেনা সমাবেশের এই পর্যালোচনা করেছে অর্গানাইজেশন ফর সিকিউরিটি অ্যান্ড কোঅপারেশন ইন ইউরোপের মার্কিন মিশন। পর্যালোচনায় রাশিয়ার এই উদ্যোগকে 'ইউরোপে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ সেনা সমাবেশ' বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

মার্কিন মিশনের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আমরা ধারণা করছি ইউক্রেনের কাছাকাছি রাশিয়ার সেনা সংখ্যা ১ লাখ ৬৯ হাজার থেকে ১ লাখ ৯০ হাজার হতে পারে। ৩০ জানুয়ারি এই সংখ্যা ছিল প্রায় ১ লাখ। এই প্রাক্কলনে সীমান্ত, বেলারুশ ও দখলকৃত ক্রিমিয়ায় রাশিয়ার ন্যাশনাল গার্ড ও মোতায়েনকৃত অন্যান্য গোয়েন্দা ইউনিট এবং পূর্ব ইউক্রেনে রুশ নেতৃত্বাধীন বাহিনীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

রাশিয়া এই সেনা সমাবেশকে নিয়মিত সামরিক মহড়ার অংশ হিসেবে উল্লেখ করছে। এর মধ্যে রয়েছে বেলারুশের সঙ্গে যৌথ মহড়া। যে দেশের সঙ্গে ইউক্রেনের উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্ত অবস্থিত এবং রাজধানী কিয়েভের কাছাকাছি। রুশ সেনাদের অংশগ্রহণ করা এই মহড়া রবিবার শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

ক্রিমিয়াতেও বড় ধরনের সামরিক মহড়ার ঘোষণা দিয়েছে রাশিয়া। এই উপত্যকাকে ইউক্রেন বিচ্ছিন্ন করে ২০১৪ সালের নিজেদের সঙ্গে একীভূত করে মস্কো। এছাড়া ইউক্রেন উপকূলে কৃষ্ণ সাগরে নৌবাহিনীর যুদ্ধে মহড়াও চালাবে দেশটি। এই মহড়ার মধ্য দিয়ে নৌপথ অবরোধের আশঙ্কা রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র বলছে, ইউক্রেন ঘিরে রাশিয়ার সেনা মোতায়েন ক্রমাগত বাড়ছে। জানুয়ারির শুরুতে বাইডেন প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, এই সংখ্যা প্রায় ১ লাখ। ফেব্রুয়ারির শুরুতে বেড়ে দাঁড়ায় ১ লাখ ৩০ হাজারে। আর মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন জানান, এই সংখ্যা দেড় লাখ।