রাশিয়ার সামরিক বাহিনী ইউক্রেনের খারকিভের শহরের দিকে যতই আগাচ্ছে বোমাবর্ষণে তীব্রতা তত বাড়ছে। তবে রাজধানী কিয়েভের দিকে তাদের অগ্রগতি স্থবির। ইউক্রেনে চলমান রুশ আক্রমণের পর্যালোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগন বৃহস্পতিবার এসব কথা জানিয়েছে।
পেন্টাগনের মতে, ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে হামলা শুরুর পর এখন পর্যন্ত রাজধানী কিয়েভ দখল করতে পারেনি রুশ বাহিনী। যদিও সীমান্তে মোতায়েন করা প্রায় দেড় লাখ সেনার সবাইকে এই অভিযানে পাঠিয়েছে মস্কো। অবশ্য ইউক্রেনের উত্তরপূর্ব ও দক্ষিণাঞ্চলীয় শহরগুলোর দিকে রুশ সেনাদের আগানোর ফলে তীব্র লড়াই হচ্ছে।
গত সপ্তাহে স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা গেছে, ৪০ মাইল দীর্ঘ একটি রুশ সামরিক বহর কিয়েভের দিকে এগোচ্ছে। কিন্তু রুশ বাহিনী কিয়েভের উত্তরাঞ্চলে স্থবির হয়ে আছে। সম্ভবত তারা সরঞ্জাম ও টিকে থাকার জটিলতায় পড়েছে অথবা নিজেদের পুনরায় সংগঠিত করছে বলে মনে করছে পেন্টাগন।
মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর জানাচ্ছে, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের হাতে এখনও লড়াই করার যথেষ্ট শক্তি রয়েছে। তিনি হয়ত রিজার্ভ সেনাদের মোতায়েন করতে পারেন। কিয়েভেও বাড়ছে বোমা হামলা।
পেন্টাগনের পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, দ্বিতীয় বৃহত্তম খারকিভের খুব কাছে পৌঁছে গেছে রুশ বাহিনী। শহরটিতে ১৪ লাখ মানুষের বসবাস এবং রাজধানী থেকে ৩০০ মাইল দূরে। রুশ সেনারা শহরের খুব কাছে একটি বাইপাস সড়ক পর্যন্ত পৌঁছে গেছে।
বুধবার রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মেজর জেনারেল ইগোর কোনাশেনকভ সাংবাদিকদের জানান, রুশ বাহিনী দক্ষিণ ইউক্রেনের একটি বন্দর নগরী খেরসনের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে।
তবে বৃহস্পতিবার পেন্টাগন আবারও বলেছে, তারা নিশ্চিত করে বলতে পারছে না রুশ বাহিনী খেরসন শহরের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে কিনা। তবে ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় আরেকটি শহর মারিউপোলের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে তারা।
খারকিভের মেয়র ইগোর তেরেখব বুধবার সিএনএনকে বলেছেন, তিনি মনে করেন বেসামরিক এলাকা ও প্রশাসনিক ভবনে বোমা হামলা চালিয়ে রাশিয়া সচেতনভাবে বেসামরিকদের নিশ্চিহ্ন করতে চাইছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশন বুধবার জানিয়েছিল, ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ইউক্রেনে ৫৩৬ জন বেসামরিক হতাহতের কথা জানা গেছে।
পেন্টাগন নিশ্চিত করেছে, রুশ বাহিনীর বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলার ইচ্ছা প্রতীয়মান হচ্ছে। তবে পেন্টাগন নিশ্চিত করতে পারেনি রাশিয়া থারমোবারিক ফুয়েল এয়ার বোমা ব্যবহার করছে কিনা।
সূত্র: নিউজউইক