বিশ্বের অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ‘পতনের’ ঝুঁকিতে: সতর্ক করলেন ন্যাটো মহাসচিব

যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন পশ্চিমাদের সামরিক জোট ন্যাটোর মহাসচিব জেন্স স্টোলটেনবার্গ সতর্ক করে বলেছেন, যে বৈশ্বিক ব্যবস্থা দ্রুত অস্ত্রের বিস্তারকে সীমিত করেছিল তা এখন বিলুপ্তির ঝুঁকিতে রয়েছে। মঙ্গলবার তিনি এই সতর্কতার কথা জানান। একই সঙ্গে তিনি রাশিয়া ও চীনকে তিরস্কার করেছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকো এ খবর জানিয়েছে।

ন্যাটো ও মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আয়োজিত অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ-বিষয়ক এক সম্মেলনে জেন্স স্টোলটেনবার্গ বরেছেন, আমরা একটি চৌরাস্তায় দাঁড়িয়ে আছি। একদিকে আন্তর্জাতিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার পতন এবং অপর দিকে ব্যাপক বিপজ্জনক পরিণতিসহ গণবিধ্বংসী অস্ত্রের সীমাহীন বিস্তার।

ন্যাটো মহাসচিব আরও বলেছেন, কিন্তু সামনে একটি বিকল্প পথ রয়েছে। এই পথেই আমাদের কাজ করা উচিত। যদিও কাজটি কঠিন।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শেষ অবশিষ্ট পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তিতে রাশিয়া অংশগ্রহণ স্থগিত করার কয়েক সপ্তাহ পরে এই মন্তব্য করলেন ন্যাটো মহাসচিব। এমন সময় রাশিয়া চুক্তি থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে যখন মস্কো ও বেইজিং উভয়েই উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় অস্ত্র তৈরি করছে। একই সঙ্গে ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার পক্ষ থেকে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের আশঙ্কা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

জেন্স স্টোলটেনবার্গ তার ভাষণে রাশিয়া ও চীনের আচরণ নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তবে তিনি বলেছেন এখনও নতুন অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার দরজা খোলা রয়েছে।

তিনি বলেন, ক্রেমলিন অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ভেঙে ফেলা এবং কৌশলগত স্থিতিশীলতা নষ্ট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রাশিয়ার নতুন স্টার্ট চুক্তিতে অংশগ্রহণ স্থগিত করার সিদ্ধান্ত, মধ্যপাল্লার পারমাণবিক ফোর্সেস (আইএনএফ) চুক্তি মেনে চলতে ব্যর্থতা এবং বেলারুশে কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েন করছে।

ন্যাটো প্রধান বলেছেন, রাশিয়া আমাদের নিরাপত্তার জন্য সবচেয়ে প্রত্যক্ষ হুমকি। তবে তিনি স্বীকার করেছেন অন্যান্য চ্যালেঞ্জও রয়েছে। নিজেদের সামর্থ্য সম্পর্কে কোনও স্বচ্ছতা বজায় না রেখে চীন তার পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার বাড়িয়ে চলেছে। অন্য দিকে ইরান ও উত্তর কোরিয়া স্পষ্টভাবে তাদের নিজস্ব পারমাণবিক কর্মসূচি ও বিতরণ ব্যবস্থার বিকাশ ঘটাচ্ছে।

অবশ্য দেশগুলোকে আলোচনার টেবিলে আনতে সহযোগিতায় ন্যাটোর ইচ্ছার ইঙ্গিতও দিয়েছেন মহাসচিব। তিনি বলেন, আমাদের মনে রাখা দরকার, অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি বন্ধুদের মধ্যে হয় না। এগুলো প্রতিপক্ষের মধ্যে হয়। সবচেয়ে সফল অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তিগুলো তীব্র উত্তেজনার সময়ে স্বাক্ষরিত হয়েছিল। শীতল যুদ্ধের সময় এটিই হয়েছিল। এমনটি এখন আবারও ঘটতে পারে।

অস্ত্র নিয়ন্ত্রণে চীনের সঙ্গে কাজ করার সম্ভাবনার ওপর জোর দিয়েছেন স্টোলটেনবার্গ। তিনি বলেন, দীর্ঘ মেয়াদে আরও বিপজ্জনক এবং প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি পুনর্বিবেচনা এবং মানিয়ে নিতে হবে। এর অর্থ চীনের সঙ্গে কাজ করা। ধারণা করা হচ্ছে, ২০৩৫ সালের মধ্যে দেশটির ১ হাজার ৫০০টি ওয়ারহেড থাকবে।