ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ওয়াশিংটন সফরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে বৈঠক নিয়ে মুখ খুলছে না হোয়াইট হাউজ। রবিবার (৯ জুন) এমন বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে কিনা জানতে চাইলে মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাক সুলিভান বলেছেন, আজ এই বিষয়ে ঘোষণা দেওয়ার মতো কিছু নেই। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
আগামী মাসে মার্কিন কংগ্রেসে ভাষণ দেবেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু ওয়াশিংটন সফরে বাইডেনের সঙ্গে তার বৈঠক হবে কি-না তা নিয়ে এখন পর্যন্ত ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করে কিছু বলা হয়নি।
মার্কিন টেলিভিশন চ্যানেল সিবিএসকে এক সাক্ষাৎকারে সুলিভান বৈঠকের বিষয়ে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু বলেননি। তিনি বলেছেন, দুই নেতা নিয়মিত যোগাযোগের মধ্যে রয়েছেন। তিনি কংগ্রেসে ভাষণ দিতে আসছেন। প্রেসিডেন্ট নিয়মিত তার সঙ্গে কথা বলছেন।
২৭ জুলাই মার্কিন কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে ভাষণ দেবেন নেতানিয়াহু। গাজায় হামাসের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি যুদ্ধে কট্টর সমর্থক বাইডেন। কিন্তু ইসরায়েলি যুদ্ধ পরিচালনার পদ্ধতি নিয়ে দুই নেতার সঙ্গে মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
নভেম্বরে পুনর্নির্বাচিত হতে ভোটের লড়াইয়ে থাকা বাইডেন ইসরায়েলকে সমর্থনের জন্য দলের বামঘেঁষা নেতাদের সমালোচনার মুখে রয়েছেন। বিশেষ করে ইসরায়েলি অভিযানে গাজায় বেসামরিকদের প্রাণহানি বাড়তে থাকায়।
সুলিভান বলেছেন, তিনি আশা করছেন নেতানিয়াহু যখন ওয়াশিংটনে পৌঁছাবেন তত দিনে হয়ত একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়ে যাবে। হামাসকে শুধু প্রস্তাবে হ্যাঁ বলতে হবে। তাহলেই চুক্তি হয়ে যাবে।
হামাসের হাতে বন্দি থাকা চার জিম্মিকে উদ্ধারে ইসরায়েলি অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছেন বাইডেন। একই সঙ্গে সব জিম্মিদের মুক্তি ও যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত হওয়ার আগ পর্যন্ত কাজ চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছেন তিনি।
জিম্মিদের উদ্ধার অভিযানের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে গোয়েন্দা সহযোগিতা দিয়েছে কি-না এই বিষয়ে মন্তব্য করেননি সুলিভান।
অপর এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র জানে না গাজায় হামাসের জিম্মি উদ্ধার অভিযানে কতজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মতে, ইসরায়েলি ওই অভিযানে ২৭৪ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। তবে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, নিহতের সংখ্যা ১০০ জনের কম। তবে তারা জানে না নিহতদের মধ্যে কতজন হামাস যোদ্ধা ও কতজন বেসামরিক।
এত বিপুল সংখ্যক ফিলিস্তিনি বেসামরিক নিহত হলেও ভবিষ্যতে ওয়াশিংটন ইসরায়েলের এমন উদ্ধার অভিযানকে সমর্থন করবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে সুলিভান বলেছেন, জিম্মিদের উদ্ধারে ইসরায়েলি পদক্ষেপে সমর্থন থাকবে যুক্তরাষ্ট্রের। ওয়াশিংটন ইসরায়েলকে বেসামরিক হতাহতের ঘটনা কমিয়ে আনার আহ্বান অব্যাহত রাখবে।