ঘুষ মামলা ফেডারেল আদালতে স্থানান্তরের আহ্বান ট্রাম্পের

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট  ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে পর্ন তারকাকে ঘুষ দেওয়ার মামলাটি ফেডারাল আদালতে স্থানান্তরের জন্য চাপ দিচ্ছেন তার আইনজীবীরা। সোমবার (১৪ অক্টোবর) ম্যানহাটন ভিত্তিক ২য় ইউএস সার্কিট কোর্ট অফ আপিলস-এ একটি সংক্ষিপ্ত আবেদন জমা দিয়েছেন তার আইনজীবীরা। ওই মামলায়  ইতোমধ্যেই নিউ ইয়র্কের একটি আদালতে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন ট্রাম্প। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে। 

ইউএস ডিস্ট্রিক্ট বিচারক আলভিন হেলস্টেইনের গত ৩ সেপ্টেম্বরের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন ট্রাম্পের আইনজীবী টড ব্ল্যাঞ্চ এবং এমিল বোভে। হেলস্টেইন ওই মামলাটি ফেডারাল আদালতে স্থানান্তরের অনুরোধটি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। ফেডারাল আদালতে স্থানান্তর হলে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পুনরায় জয়ী হলে মামলাটি বন্ধ করার সুযোগ পাবেন ট্রাম্প।

আসন্ন ৫ নভেম্বরের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসের মুখোমুখি হচ্ছেন ট্রাম্প। নির্বাচনে জয়ী হলে নতুন বিচার বিভাগীয় নেতৃত্বকে ফেডারেল আদালতে চলমান কোনও ফৌজদারি মামলা বাতিল করার নির্দেশ দিতে পারেন ট্রাম্প। তবে রাজ্য অপরাধমূলক অভিযোগ প্রেসিডেন্টের ক্ষমা করার ক্ষমতার বাইরে থাকে।

মার্কিন আইন অনুসারে,ফেডারেল কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে করা কোন‌ও নাগরিক বা অপরাধমূলক মামলা যদি তাদের অফিসিয়াল দায়িত্বের সাথে সম্পর্কিত হয়, তবে তা ফেডারেল আদালতে স্থানান্তর করা যেতে পারে।

ঘুষ বা তথ্য গোপনের ওই মামলা নির্বাচনে দাঁড়ানোর একজন প্রার্থীর সাংবিধানিক অধিকার ক্ষুণ্ন করছে বলে মনে করেন তার আইনজীবীরা।

গত মে মাসে তথ্য গোপনের দায়ে ট্রাম্পকে দোষী সাব্যস্ত করেন নিউইয়র্কের একটি আদালত। তার বিরুদ্ধে আনা ৩৪টি অভিযোগের সব কটি প্রমাণিত হয়। আদালতে বলা হয়, ২০০৬ সালে পর্ন তারকা স্টর্মি ড্যানিয়েলসের সঙ্গে তার যৌন সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। পরে ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে এ বিষয়ে মুখ না খুলতে ট্রাম্পের পক্ষ থেকে স্টর্মিকে এক লাখ ৩০ হাজার ডলার ঘুষ দেওয়া হয়। তবে ব্যবসায়িক নথিপত্রে এ লেনদেনের তথ্য গোপন করা হয়েছিল।

ট্রাম্প ও তার আইনজীবীরা বারবার বলে আসছিলেন, ট্রাম্পের বিরুদ্ধে নিউইয়র্কে যে তথ্য গোপনের মামলা করা হয়েছে, তা অন্যায্য ও রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

তবে দোষী সাব্যস্তের পরে আপিল করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ট্রাম্প। ওই মামলার সাজা ঘোষণার রায় ২৬ নভেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে।