বিরল খনিজে চীনের আধিপত্য কমাতে একজোট হচ্ছে জি-৭ ও মিত্ররা

চীনের বিরল খনিজের ওপর আধিপত্য কমাতে করণীয় নিয়ে সোমবার (১২ জানুয়ারি) ওয়াশিংটনে বৈঠক করেছেন জি–৭ ও অন্যান্য প্রভাবশালী দেশের অর্থমন্ত্রীরা। বৈঠকে বিকল্প উৎস গড়ে তোলার জন্য ন্যূনতম মূল্য নির্ধারণ (প্রাইস ফ্লোর) ও নতুন অংশীদারত্ব তৈরিসহ নানা উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা হয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্টের আহ্বানে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে জি-৭ সদস্য জাপান, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রীদের পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়া, মেক্সিকো, দক্ষিণ কোরিয়া ও ভারতের কর্মকর্তারাও অংশ নেন। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার এবং ইউএস এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংক ও জেপি মরগানের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। তবে বৈঠক শেষে কোনো যৌথ বিবৃতি দেওয়া হয়নি।

তবে ট্রেজারি বিভাগের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, বিশেষ করে বিরল মাটি উপাদানের সরবরাহ শৃঙ্খল নিরাপদ ও বৈচিত্র্যময় করার সমাধান নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে চীনের সঙ্গে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন না হয়ে ঝুঁকি কমানো (ডি-রিস্কিং) নীতিতে আগোনোর ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

অন্যদিকে, জাপানের অর্থমন্ত্রী সাতসুকি কাটায়ামা সাংবাদিকদের বলেছেন, বিরল খনিজের ক্ষেত্রে চীনের ওপর নির্ভরতা দ্রুত কমানোর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বিস্তৃত ঐকমত্য হয়েছে। তিনি আরও জানিয়েছেন, চীনের বাইরে বিরল খনিজের সরবরাহ বাড়াতে জি-৭ ও সমমনা দেশগুলোর জন্য স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি নীতি ও কর্মপক্রিয়া তুলে ধরা হয়েছে।

আবার জার্মানির অর্থমন্ত্রী লার্স ক্লিংবাইল জানিয়েছেন, বৈঠকে বিরল খনিজের ন্যূনতম মূল্য নির্ধারণ এবং সরবরাহ বাড়াতে অংশীদারত্বের বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। তবে তিনি আরও বলেছেন, আলোচনা এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে এবং বহু বিষয় অমীমাংসিত। এ বছর জি-৭ এর ফরাসি সভাপতিত্বকালে বিরল খনিজ ও গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামালের সরবরাহ একটি কেন্দ্রীয় আলোচ্য বিষয় হবে বলেও জানান তিনি।

রয়টার্সের সংবাদ উল্লেখ করা হয়েছে, এই বৈঠকে অংশ নেওয়া দেশগুলো ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) মিলিয়ে বিশ্বে গুরুত্বপূর্ণ খনিজের মোট চাহিদার প্রায় ৬০ শতাংশের প্রতিনিধিত্ব করে। তবে সরবরাহ শৃঙ্খলে চীনের আধিপত্য স্পষ্ট। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) তথ্য অনুযায়ী, তামা, লিথিয়াম, কোবাল্ট, গ্রাফাইট ও বিরল মাটিসহ নানা খনিজের পরিশোধনের ৪৭ থেকে ৮৭ শতাংশই চীনের নিয়ন্ত্রণে। এই খনিজগুলো প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, সেমিকন্ডাক্টর, নবায়নযোগ্য জ্বালানি উপাদান, ব্যাটারি ও পরিশোধন প্রক্রিয়ার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে চীন জাপানের সামরিক খাতে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে এমন কিছু পণ্যের রপ্তানি নিষিদ্ধ করেছে,। যেগুলো বেসামরিক ও সামরিক দুই ক্ষেত্রেই ব্যবহারযোগ্য এবং এর মধ্যে কিছু গুরুত্বপূর্ণ খনিজও রয়েছে।