নিউ স্টার্ট চুক্তি

পুতিনের এক বছর চুক্তি বাড়ানোর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেন ট্রাম্প

কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণে থাকা নিউ স্টার্ট চুক্তির মেয়াদ এক বছরের জন্য বাড়ানোর রাশিয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পুরোনো চুক্তি বাড়ানোর বদলে নতুন, আধুনিক ও উন্নত একটি চুক্তি নিয়ে কাজ করা উচিত বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে এমনটাই জানিয়েছেন তিনি। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প বলেছেন, নিউ স্টার্টের মতো পুরোনো চুক্তি বাড়ানোর পরিবর্তে মার্কিন পারমাণবিক বিশেষজ্ঞদের দিয়ে একটি দীর্ঘমেয়াদি ও আধুনিক চুক্তি প্রণয়ন করা উচিত। তিনি নিউ স্টার্টকে ‘খারাপভাবে আলোচিত’ এবং ‘গুরুতরভাবে লঙ্ঘিত’ একটি চুক্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

সম্প্রতি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন প্রস্তাব দিয়েছিলেন, ২০১০ সালে স্বাক্ষরিত নিউ স্টার্ট চুক্তির অধীনে নির্ধারিত সীমা এক বছরের জন্য বজায় রাখা হোক।

অন্যদিকে হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যেতে প্রস্তুত। একই সুরে রাশিয়ার মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, ওয়াশিংটন গঠনমূলক সাড়া দিলে রাশিয়াও সংলাপে আগ্রহী।

আবার রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় উভয় দেশই এখন পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে স্বাধীন। তবে তারা কূটনীতির পথও খোলা রাখছে।

জাতিসংঘ উভয় পক্ষকে চুক্তি পুনর্বহালের আহ্বান জানিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিউ স্টার্ট শুধু অস্ত্রের সংখ্যায় সীমা দেয়নি, বরং পরিদর্শন ব্যবস্থার মাধ্যমে পারস্পরিক আস্থা তৈরি করেছিল। কোনও নতুন চুক্তি না হলে ভুল বোঝাবুঝি ও অস্ত্র প্রতিযোগিতার ঝুঁকি বাড়বে।

এই চুক্তি অনুযায়ী, প্রতিটি দেশ সর্বোচ্চ ১ হাজার ৫৫০টি কৌশলগত পারমাণবিক ওয়ারহেড এবং ৭০০টি ক্ষেপণাস্ত্র, যুদ্ধবিমান ও সাবমেরিন মোতায়েন করতে পারে। দুই দশকের বেশি সময় ধরে এই চুক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তবে চুক্তিটি একবারই বাড়ানোর সুযোগ ছিল, যা ২০২১ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও পুতিন পাঁচ বছরের জন্য বাড়িয়ে ছিলেন।

উল্লেখ্য, চীনকে অন্তর্ভুক্ত করে নতুন চুক্তির কথা বললেও বেইজিং এই বিষয়ে আলোচনা করতে রাজি হয়নি। চীনের হাতে আনুমানিক ৬০০টি ওয়ারহেড রয়েছে।