যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান সিনেটর এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী লিন্ডসে গ্রাহাম শনিবার (১১ জুলাই) মারা গেছেন বলে জানিয়েছে তার পরিবার। গ্রাহামের ভেরিফায়েড এক্স অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে পরিবার জানায়, এই অত্যন্ত কঠিন সময়ে সিনেটর গ্রাহামের পরিবারের জন্য সবার কাছে দোয়া কামনা করছি এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার অনুরোধ জানাচ্ছি। মার্কিন বার্তা সংস্থা এপি এ খবর জানিয়েছে।
একই বিবৃতিতে বলা হয়, ‘স্বল্প সময়ের একটি আকস্মিক অসুস্থতার’ কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। একই বার্তা তার ফেসবুক প্রোফাইলেও প্রকাশ করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র সরকার বা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে কোনও বক্তব্য আসেনি।
এদিকে, জেরুজালেম পোস্টের এক প্রতিবেদনে এনবিসি নিউজের বরাতে বলা হয়েছে, শনিবার রাতে গ্রাহামের বাসভবনে ‘কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট’-এর ঘটনায় জরুরি সেবা কর্মীরা সাড়া দেন।
কে ছিলেন লিন্ডসে গ্রাহাম
১৯৫৫ সালে দক্ষিণ ক্যারোলাইনার সেন্ট্রালে জন্মগ্রহণ করেন লিন্ডসে গ্রাহাম। তিনি ছিলেন পরিবারের প্রথম সদস্য, যিনি স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৯৫ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনীর রিজার্ভে যোগ দেন এবং ইরাক ও আফগানিস্তানে সামরিক অভিযানে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৫ সালের জুনে ৩৩ বছরের সামরিক জীবনের অবসান ঘটিয়ে কর্নেল পদমর্যাদায় অবসর নেন।
২০০২ সালে তিনি প্রথম যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে নির্বাচিত হন। এরপর ২০০৮, ২০১৪ ও ২০২০ সালেও পুনর্নির্বাচিত হন।
সিনেটে যাওয়ার আগে ১৯৯৪ সালে দক্ষিণ ক্যারোলাইনা থেকে প্রথম রিপাবলিকান হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদে নির্বাচিত হন। ২০১৬ সালে তিনি রিপাবলিকান দলের প্রেসিডেন্ট প্রার্থিতার জন্যও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। সে সময় তিনি ট্রাম্পের কড়া সমালোচক ছিলেন।
তবে ২০১৭ সালে একসঙ্গে গলফ খেলার পর দুজনের সম্পর্কের নাটকীয় পরিবর্তন ঘটে। পরে ওয়াশিংটনে ট্রাম্পের অন্যতম ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক মিত্রে পরিণত হন গ্রাহাম। টেলিভিশনে নিয়মিত ট্রাম্পের পক্ষে অবস্থান নেন এবং সিনেটে প্রশাসনের রক্ষণশীল বিচারপতি মনোনয়ন এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। বিশেষ করে ইরান ইস্যুতে তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অবস্থান বজায় রাখেন।
এছাড়া, রাশিয়ার কাছ থেকে ভারতের তেল কেনার বিরুদ্ধে আইনগত উদ্যোগের অন্যতম প্রধান সমর্থক ছিলেন গ্রাহাম। ডেমোক্র্যাট সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথালের সঙ্গে তিনি স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যাক্ট-এর সহ-উদ্যোক্তা ছিলেন। এ সময় তিনি ভারতীয় পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত দ্বিতীয় দফার শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিলেন। পাশাপাশি রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল কেনা অব্যাহত রাখলে অংশীদার দেশগুলোর অর্থনীতি ‘ধ্বংস করে দেওয়া হবে’ বলেও মন্তব্য করেছিলেন।