মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের অনুরোধ হোয়াইট হাউস উপেক্ষা করার পর আগামী সপ্তাহে নিজের পূর্বনির্ধারিত যুক্তরাষ্ট্র সফর বাতিল করেছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈঠক আয়োজনের অনুরোধের বিপরীতে নেতানিয়াহু কোনও স্পষ্ট ‘না’ শুনেছিলেন কিনা তা নিশ্চিত নয়, তবে ট্রাম্পের শিবিরের পক্ষ থেকে তিনি ইতিবাচক কোনও সাড়াও পাননি।
ইরানের বিরুদ্ধে একসঙ্গে যুদ্ধ শুরু করা দুই ‘বন্ধু’ ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে ক্রমবর্ধমান দূরত্ব তৈরি হওয়া এবং উভয়ের স্বার্থের ভিন্নতার খবরের মধ্যেই এই ঘটনা ঘটল। হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা অ্যাক্সিওসকে জানিয়েছেন, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করতে চাইলেও তাদের বৈঠকটি কখনই চূড়ান্ত বা প্রেসিডেন্টের সময়সূচিতে যুক্ত করা হয়নি। কর্মকর্তারা বলেন, আমাদের ধারণা ছিল বিবি জোরপূর্বক একটি বৈঠক আয়োজনের চেষ্টা করছিলেন।
নেতানিয়াহুর ওপর ক্ষুব্ধ ট্রাম্প
সম্ভাব্য এই বৈঠক নিয়ে টানাপোড়েনের কয়েক দিন আগেই ট্রাম্পের আঙ্কারা সফরের আগে ফক্স নিউজে এক সাক্ষাৎকার দেন ইসরায়েলি নেতা। সেখানে তিনি তুরস্কের কাছে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের ইচ্ছার সমালোচনা করেন। হোয়াইট হাউসের একজন কর্মকর্তা অ্যাক্সিওসকে জানান, ওই সাক্ষাৎকারের কারণে ট্রাম্প প্রচণ্ড ‘ক্ষুব্ধ’ হয়েছিলেন। আরেক কর্মকর্তা দাবি করেন, মার্কিন কমান্ডারের মনে হয়েছে এই বিষয়ে কথা বলার ‘কোনও অধিকার বিবির নেই’।
তাছাড়া, ট্রাম্প যখন তুরস্কে ছিলেন, তখন তেল আবিব ওয়াশিংটনের কাছে একটি গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করে। যেখানে দাবি করা হয়, আঙ্কারায় থাকা অবস্থায় মার্কিন প্রেসিডেন্টের ওপর ইরান ‘হত্যাকাণ্ডের ছক’ কষতে পারে। এই তথ্যের পর সিক্রেট সার্ভিস সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ট্রাম্পের ফ্লাইট পরিবর্তন করে পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানে স্থানান্তরিত করে।
তবে পরবর্তীতে বেশ কয়েকজন মার্কিন কর্মকর্তা জানান, ওই তথ্যটি ছিল একক উৎসের এবং এর কোনও সত্যতা পাওয়া যায়নি। একজন কর্মকর্তা বলেন, এটি বাস্তবসম্মত কোনও পরিকল্পনার চেয়ে বরং ইচ্ছামূলক প্রচারণা ছিল। অন্যদিকে তুর্কি নিরাপত্তা বাহিনীও বিষয়টি তদন্ত করে আঙ্কারায় ট্রাম্পকে হত্যার এমন কোনও সুনির্দিষ্ট ষড়যন্ত্রের প্রমাণ পায়নি।
ওয়াশিংটনে নেতানিয়াহুর ক্রমবর্ধমান অজনপ্রিয়তা
এই ঘটনাগুলো ওয়াশিংটনে নেতানিয়াহুর অজনপ্রিয়তা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সসহ বেশ কয়েকজন মার্কিন কর্মকর্তা নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন যে, তিনি ট্রাম্পের কাছে ইরান যুদ্ধ নিয়ে এমন কিছু আশাব্যঞ্জক ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যা বাস্তবে মেলেনি।
জো রোগানের পডকাস্টে অংশ নিয়ে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট অভিযোগ করেন, নেতানিয়াহু সরকারের সদস্যরা যুদ্ধকে দীর্ঘায়িত করার উদ্দেশ্যে ট্রাম্প প্রশাসনের ইরান নীতিকে দুর্বল করার চেষ্টা করছেন।
এরই মধ্যে, চলতি সপ্তাহে প্রতিনিধি পরিষদের ১০৩ জন ডেমোক্র্যাট সদস্য ইসরায়েলে যুক্তরাষ্ট্রের ৩ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা কাটছাঁট করার পক্ষে ভোট দিয়েছেন, যা নেতানিয়াহু ও তার সরকারের বিরুদ্ধে এক বিস্ময়কর তিরস্কার হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সূত্র: এনডিটিভি