সূর্যগ্রহণের দুই সপ্তাহের মাথায় এবার মহাকাশে ঘটতে যাচ্ছে বিরল এক দৃশ্যপট। সূর্য ও পৃথিবীর সঙ্গে নিখুঁত সারিবদ্ধতার কারণে মহাজাগতিক ছায়ায় ঢাকা পড়তে যাচ্ছে চাঁদ। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত থেকে শুরু হয়ে শুক্রবার পর্যন্ত স্থায়ী হতে যাওয়া এই আংশিক চন্দ্রগ্রহণে চাঁদের প্রায় ৯৬ শতাংশ পৃথিবীর ছায়ায় ঢেকে যাবে। মার্কিন বার্তা সংস্থা এপি এ খবর জানিয়েছে।
গ্রহণের সময় সূর্য ও চাঁদের মাঝখানে চলে আসবে পৃথিবী। এ সময় পৃথিবীর প্রচ্ছায়ায় চাঁদের উপরিভাগে রক্তিম-কমলা রঙের এক অদ্ভুত আভা ফুটে উঠবে। এই পূর্ণাঙ্গ মহাজাগতিক প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হতে মোট সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা সময় লাগবে। তবে গ্রহণের মূল আংশিক পর্যায়টি স্থায়ী হবে তিন ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে। পূর্ব মার্কিন সময় (ইডিটি) মধ্যরাতের পরপরই গ্রহণটি পূর্ণ রূপ বা চূড়ান্তে পৌঁছাবে।
মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার মহাকাশচারী জ্যাক হ্যাথাওয়ে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন থেকে বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) বলেন, মহাকাশ কর্মসূচির অংশ হওয়ার জন্য এটি অত্যন্ত রোমাঞ্চকর একটি সময়। আমাদের কার্যক্রম একটুও ধীর হচ্ছে না।
আকাশ পরিষ্কার থাকা সাপেক্ষে উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা, ইউরোপ, আফ্রিকা এবং মধ্যপ্রাচ্যের কোটি কোটি মানুষ এই বিরল দৃশ্য উপভোগ করতে পারবেন। নর্থ ও সাউথ আমেরিকা ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার প্রায় ১০০ কোটি মানুষ একদম সরাসরি এই গ্রহণ দেখতে পাবেন। এছাড়া বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪৪ শতাংশ বা ৩০০ কোটিরও বেশি মানুষ গ্রহণটির অন্তত কিছু অংশ দেখার সুযোগ পাবেন।
চলতি বছরে এটি বিশ্বের চতুর্থ এবং দ্বিতীয় চন্দ্রগ্রহণ। এর আগে গত মার্চ মাসে আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া এবং পূর্ব এশিয়ার আকাশে পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ দেখা গিয়েছিল।
তবে মহাকাশপ্রেমীদের জন্য পরবর্তী পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণের অপেক্ষাটি একটু দীর্ঘ হতে যাচ্ছে। ২০২৮ সালের নিউ ইয়ার্স ইভে (৩১ ডিসেম্বর) এশিয়া ও অস্ট্রেলিয়া অঞ্চলে পরবর্তী পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ দেখা যাবে। অন্যদিকে উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার বাসিন্দাদের পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ দেখার জন্য ২০২৯ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।